ইয়েমেনকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি। রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি এবং লোহিতসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূচনা হয় সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রানওয়েতে হামলা চালিয়ে একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দেয়। সরকারের দাবি, ওই বিমানের মাধ্যমে হুতি বিদ্রোহীদের জন্য সামরিক সহায়তা পৌঁছানোর আশঙ্কা ছিল।
এ ঘটনার পর হুতিদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৌদি আরবকে দায়ী করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের দাবি, যদি সানার বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরও হামলার লক্ষ্য হতে পারে। এর পরপরই সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করে হুতিরা। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সানার বিমানবন্দরের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহার না করা হলে তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। পাশাপাশি তেহরান ও সানার মধ্যে বিমান যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের এই সংকট মূলত সৌদি আরব ও ইরানের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক আধিপত্যের দ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ। সৌদি আরবের অভিযোগ, হুতি গোষ্ঠী ইরানের সমর্থনে পরিচালিত একটি সশস্ত্র শক্তি। অন্যদিকে হুতিরা নিজেদের ইয়েমেনের বৈধ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাবি করে আসছে। ইয়েমেনের সংঘাতের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। রাজধানী সানা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট গঠিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল সরকারকে পুনর্বহাল করা এবং হুতিদের অগ্রযাত্রা থামানো। এরপর থেকেই দেশটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে রয়েছে।
যদিও কয়েক বছর আগে যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের লড়াই কিছুটা কমে এসেছিল, তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সফল হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে হোদেইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ বিভিন্ন এলাকায় আবারও সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। একাধিক স্থানে সরকারি বাহিনী ও হুতি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আল-জাওফ অঞ্চলে উপজাতীয় বিরোধও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, যা হুতিদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে লোহিতসাগর উপকূলবর্তী এলাকায় সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য পরিবহন হয়। ফলে ইয়েমেনে সংঘাত আরও তীব্র হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন