ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেক বিশ্লেষকই এই দুই দলকে শেষ চারে দেখার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, আর সেই পূর্বাভাসই এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন এই মহারণের দিকেই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বরাবরই আলোচিত। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জয়ের পর বহুবার মুখোমুখি হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই দীর্ঘদিন দেখা যায়নি। এবার লিওনেল মেসির নেতৃত্বে চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অপেক্ষা শেষ করতে মরিয়া ইংল্যান্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারাতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শুরুতে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। পরে প্রতিপক্ষ ১০ জনে পরিণত হলেও জয় পেতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচ শেষে কোচ লিওনেল স্কালোনি স্বীকার করেন, কঠিন লড়াইয়ের পর কিছুটা ভাগ্যও তাদের পক্ষে ছিল।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা, ডেকলান রাইসসহ একাধিক তারকা ফুটবলার দারুণ পারফরম্যান্স করছেন। বিশেষ করে বেলিংহাম টানা দুই নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করে দলের সবচেয়ে বড় ভরসায় পরিণত হয়েছেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের লড়াই। একদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড। অনেকের কাছেই এই সেমিফাইনালই এবারের বিশ্বকাপের ‘অঘোষিত ফাইনাল’।
দুই দলের লক্ষ্য একটাই—ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বিশ্বকাপ ট্রফির আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে যাওয়া। তাই কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর অপেক্ষা এখন এক মহারণের, যেখানে নির্ধারিত হবে কে খেলবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন