ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজারো মানুষ আটকা পড়ে আছেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চল। বহু ভবন ধসে পড়ায় অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, এখনও দুই শতাধিক মানুষ জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন। তবে উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারী যন্ত্রপাতির সংকট। পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এতে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। পাশাপাশি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ভূতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্যমতে, কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। কম গভীরতায় উৎপত্তি হওয়ায় কম্পনের প্রভাব ব্যাপক এলাকাজুড়ে অনুভূত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল দুটি ভূত্বকীয় প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃত ও ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন