ঢাকা | |

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বয়কট করে সভাকক্ষ ছাড়লো ইরান

নতুন করে সামরিক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা বর্জন করেছে তেহরানের প্রতিনিধি দল।
  • আপলোড সময় : ২৩ জুন ২০২৬, দুপুর ২:৪৬ সময়
  • আপডেট সময় : ২৩ জুন ২০২৬, দুপুর ২:৪৬ সময়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বয়কট করে সভাকক্ষ ছাড়লো ইরান

নতুন করে সামরিক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা বর্জন করেছে তেহরানের প্রতিনিধি দল। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মাঝপথেই প্রতিনিধিরা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।


গালিবাফ বলেন, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় আগ্রহী ছিল না। মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে কেবল পরোক্ষ সংলাপে অংশ নেওয়া হয়েছিল। তবে আলোচনার সময় তিনি জানতে পারেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আবারও ইরানের রাষ্ট্রপতি, প্রতিনিধি দল এবং দেশের মূল ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানান। গালিবাফের দাবি, এমন বক্তব্য দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতার মৌলিক শর্তের সরাসরি লঙ্ঘন।


তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে বসে থাকা অবস্থায় কোনো পক্ষকে হুমকি দেওয়া বা সামরিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ নেই। কিন্তু নতুন করে দেওয়া হুমকি সেই নীতির পরিপন্থী। তিনি আরও জানান, ইরান কখনোই হুমকি কিংবা চাপের মুখে আলোচনায় অংশ নেয় না। এরপর পুরো ইরানি প্রতিনিধি দল বৈঠক বর্জন করে সভাকক্ষ ত্যাগ করে। পরবর্তীতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন বৈঠকের প্রস্তাব এলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। পরে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সেখানে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় বসবে না।


জানা গেছে, অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীরা প্রায় ৮০ মিনিট ধরে নিবিড় আলোচনা চালান। পরে একটি যৌথ কূটনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানকে সতর্ক করে বলেন, লেবাননে তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে ইরানের অবস্থানেরও সমালোচনা করেন।


উল্লেখ্য, দীর্ঘ উত্তেজনার পর গত ১৪ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি শান্তি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। পরে ১৮ জুন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সমঝোতাটি কার্যকর হয়। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল লেবাননের সংঘাত বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।


সূত্র: আনাদোলু সংবাদ সংস্থা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
২৩ জুন উপলক্ষে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

২৩ জুন উপলক্ষে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর