রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জমিতে গড়ে ওঠা নতুন কাঁচা বাজার কৃষি মার্কেটকে ঘিরে অবৈধ দখল, দোকান বিক্রি ও বিপুল রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদন ছাড়া নির্মিত দ্বিতল পাকা ভবনে শত শত দোকান বিক্রি করে একটি চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। খবরটি প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক-এ।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আগুনে কৃষি মার্কেট পুড়ে যাওয়ার পর অস্থায়ীভাবে ব্যবসায়ীদের দোকান বসানোর সুযোগ দেয় ডিএনসিসি। তবে সেই অস্থায়ী ব্যবস্থাকেই কাজে লাগিয়ে পরে সেখানে অবৈধভাবে স্থায়ী পাকা স্থাপনা গড়ে ওঠে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে দুটি ব্লকে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর নিচতলায় শতাধিক দোকান চালু রয়েছে, যেখানে কসমেটিকস, জুয়েলারি, কাপড়, ব্যাগ ও মুদি পণ্যের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা চলছে। দোতলার নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও কিছু অংশে দোকান বসানোর প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, সিটি করপোরেশনের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা এসব দোকান ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। প্রায় ৪০০ দোকান থাকা এই মার্কেট থেকে ডিএনসিসি কোনো ধরনের রাজস্ব আদায় করতে পারছে না, ফলে শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট মার্কেট নির্মাণ সেল জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী কোনো মার্কেট নির্মাণের আগে সমীক্ষা, নকশা ও বরাদ্দ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। তবে কৃষি মার্কেটের ক্ষেত্রে এসব কোনো প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি তাদের।
২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর অগ্নিকাণ্ডে আগের কৃষি মার্কেটটি পুড়ে গেলে সেখানে অস্থায়ী দোকান স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ ও দোকান বিক্রির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, ডিএনসিসির কিছু কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় এই অবৈধ কাঠামো গড়ে ওঠে। অভিযোগে আরও উঠে আসে, সাবেক এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নিয়ন্ত্রণে দোকান দখল ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যিনি পরে এসব দোকান উচ্চ দামে বিক্রি করেছেন বলেও জানা যায়।
এ বিষয়ে কৃষি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জানান, এখনো এই মার্কেটের কোনো বৈধতা দেয়নি সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই জোরপূর্বক এই মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে এবং এতে সংস্থাটি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবৈধ দখল, দোকান বিক্রি ও রাজস্ব হারানোর ঘটনায় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন