সংসদে এক আলোচনায় ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি পোলট্রি ও মাছের খাদ্য মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের এক সংসদ সদস্য এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জানানো হয়, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ব্যবহৃত ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু অসাধু কিছু ব্যবসায়ী কম খরচে পশুখাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করছে। এতে মুরগি ও মাছের শরীরে বিষাক্ত উপাদান জমা হতে পারে, যা পরবর্তীতে মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষাক্ত উপাদান মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, আলসার ও কিডনি জটিলতার মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমনকি উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার পরও কিছু ক্ষতিকর উপাদান নষ্ট হয় না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
এছাড়া সংসদে স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট নিয়েও উদ্বেগের চিত্র উঠে আসে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর হাজার হাজার পদ শূন্য রয়েছে বলে জানানো হয়। উপজেলা, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন পর্যায়েও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ ফাঁকা রয়েছে, যা চিকিৎসা সেবায় চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি কুকুরে কামড়ের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং বর্তমানে কোনো সংকট নেই বলেও সংসদে উল্লেখ করা হয়।
সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে, যেখানে ঝুঁকি ও সমাধান উভয় বিষয়ই উঠে এসেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন