ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ ও দলের নেতাকর্মীদের সংকটের সময়ে তাদের ছেড়ে বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ নেই। মঙ্গলবার নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জীবনের কঠিন সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই তার পাশে ছিলেন। তাই বর্তমানে দলের নেতাকর্মীরা নানা সংকটের মধ্যে থাকলে তাদের ছেড়ে অবসরে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ইচ্ছা তার দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় দলীয় কাউন্সিলেও তিনি তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার কথা বলেছেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি সেই পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার প্রশ্নে এখনও তার দায়িত্ব শেষ হয়নি। জনগণের নিরাপত্তা, উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরই তিনি অবসরের বিষয়ে ভাববেন বলে জানান।
দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তির বা পরিবারের সম্পত্তি নয়। দলীয় গঠনতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য, ত্যাগী ও আদর্শনিষ্ঠ নেতাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। তিনি আরও বলেন, তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে রয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমিক ও দক্ষ নেতাদের জন্য দলীয় কাঠামোতে সুযোগ তৈরি করা হবে।
বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। জনগণের সমর্থন এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের শক্তিকে ভিত্তি করেই তিনি দেশে ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে এখনও তাদের আস্থার জায়গা হিসেবে দেখে এবং সেই জনগণের শক্তিই ভবিষ্যতে দলকে আরও সুসংগঠিত করবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন