যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রকে ঘিরে গোয়েন্দা তৎপরতার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে একটি মিত্র দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশেষ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ার প্রেক্ষাপটে পাল্টা গোয়েন্দা নজরদারির মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে তথ্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ, কূটনৈতিক আলোচনা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক নয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থানের মধ্যে দৃশ্যমান পার্থক্য তৈরি হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদেশ সফর ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সময় মার্কিন কর্মকর্তারা এখন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন। সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে পারস্পরিক আস্থা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সাম্প্রতিক বিতর্ক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন