উচ্ছেদ অভিযান চললেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসছেন হকাররা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবার উচ্ছেদের পর কিছুদিনের মধ্যেই তারা আগের অবস্থানে ফিরে আসছেন। হকারদের অভিযোগ, তারা বহু বছর ধরে এসব স্থানে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই আবার ফুটপাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং পুলিশ যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান চালালেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। উচ্ছেদের পরপরই গুলিস্তান, মতিঝিল, ফার্মগেট, নিউ মার্কেট, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবারও হকারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে যান চলাচলে চাপ বেড়ে যাচ্ছে এবং পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) হকারদের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা ‘হকার কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকশ হকারকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও হকারকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আটটি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হবে। এতে দিনে ফুটপাত উন্মুক্ত থাকবে এবং রাতে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত হকারদের ধাপে ধাপে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তবে হকার সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু উচ্ছেদ নয় বরং আইন করে নির্দিষ্ট স্থানে বৈধভাবে বসার সুযোগ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের মতে, স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই সমস্যা বারবার ফিরে আসবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হকার ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন এবং সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা ছাড়া রাজধানীর ফুটপাত দখল সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন