ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
ডিজে পার্টি ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন-অর রশীদকে চাকরিচ্যুত কুমিল্লা বোর্ডে ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কোনো শিক্ষার্থী তাহসিফের মৃত্যুর আগে বান্ধবী ও দীপকে নিয়ে বারে দেড় ঘণ্টা অবস্থান শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে ঘিরে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত বেশ কয়েকজন ‘এবারের এইচএসসির ফলাফলই আসলে প্রকৃত চিত্র, বিএনপি সরকারকে সাধুবাদ জানাই’ আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না: চিফ হুইপ বরিশাল বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার নেমেছে ৪৪.৮৪ শতাংশে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান একীভূত করার ভাবনা, শিক্ষকদের চাকরি যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী কারিগরিতে পাসের হার ৪৯.৪৩%, জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৮৬ জনের মধ্যে ছাত্রী ৭০৬ জন

বিশ্বে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যত দুর্ঘটনা ও শিক্ষা

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তিকে বিশ্বজুড়ে একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এর সঙ্গে
  • আপলোড সময় : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময়
  • আপডেট সময় : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময়
বিশ্বে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যত দুর্ঘটনা ও শিক্ষা

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তিকে বিশ্বজুড়ে একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একাধিক ভয়াবহ দুর্ঘটনার ইতিহাস, যা মানবসভ্যতাকে বারবার সতর্ক করে দিয়েছে। ইতিহাস বলছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দুর্ঘটনা সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এর প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী। একবার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে তা মাটি, পানি ও বায়ুকে দূষিত করে বহু বছর ধরে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।


চেরনোবিল: ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়—

১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঘটে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা। রিঅ্যাক্টরের নকশাগত ত্রুটি এবং পরীক্ষার সময় অপারেটরদের গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

বিস্ফোরণের পর বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ৩০ কিলোমিটার এলাকাকে নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়। আজও সেখানে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব বিদ্যমান।


ফুকুশিমা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট পারমাণবিক বিপর্যয়—

২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্র ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শীতলীকরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে একাধিক রিঅ্যাক্টরের জ্বালানি গলে গিয়ে পরিবেশে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে।

তাৎক্ষণিক মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও প্রায় দেড় লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং জাপানের অর্থনীতি ও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়।


মানবিক ভুল ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফলাফল—

১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের থ্রি মাইল আইল্যান্ড দুর্ঘটনা পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে। যান্ত্রিক ত্রুটি ও অপারেটরদের ভুলে আংশিক মেল্টডাউন ঘটলেও বড় ধরনের প্রাণহানি হয়নি। এছাড়া ১৯৫৭ সালের কিশতিম বিপর্যয়, উইন্ডস্কেল ফায়ার এবং ১৯৯৯ সালের টোকাইমুরা দুর্ঘটনাও পারমাণবিক প্রযুক্তির ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করে।


দুর্ঘটনার পেছনের মূল কারণ—

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক দুর্ঘটনার পেছনে সাধারণত প্রযুক্তিগত ত্রুটি, মানবিক ভুল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা একসঙ্গে কাজ করে। কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগও বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


ঝুঁকি নির্ধারণের আন্তর্জাতিক স্কেল—

আন্তর্জাতিকভাবে পারমাণবিক দুর্ঘটনার মাত্রা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় আইএনইএস (INES) স্কেল, যেখানে ০ থেকে ৭ পর্যন্ত ধাপ রয়েছে। চেরনোবিল ও ফুকুশিমা সর্বোচ্চ লেভেল ৭-এ অবস্থান করছে।


ভবিষ্যতের পথ—

অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক তদারকি জোরদার করা হয়েছে। তবুও পারমাণবিক শক্তির সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও এখনো অস্বীকার করা যায় না।


বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই পারমাণবিক শক্তির টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ