আন্তর্জাতিক সংলাপ এবং আঞ্চলিক সংকট নিরসনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও উদ্বেগ তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক বার্তায় তারা সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও আলোচনার পথে থাকা বাধা এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার শর্তগুলোও স্পষ্ট করেন।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক পোস্টে বলেন, ইরান সবসময়ই সংলাপ ও সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই নীতি বজায় রাখবে। তবে তিনি কার্যকর আলোচনার ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বাধার কথা তুলে ধরেন—প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অবৈধ অবরোধ আরোপ এবং অব্যাহত হুমকি প্রদান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন “কথা ও কাজের মধ্যে বৈপরীত্য” প্রত্যক্ষ করছে।
অন্যদিকে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে হলে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। তার মতে, নৌ-অবরোধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে জিম্মি করার প্রচেষ্টা বন্ধ না হলে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন থামানো না হলে যুদ্ধবিরতির কোনো বাস্তব অর্থ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সমাধান হয়।
গালিবাফ দাবি করেন, সামরিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তার মতে, সংকট সমাধানের একমাত্র পথ হলো ইরানের ন্যায্য অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া। এদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে একটি সমন্বিত প্রস্তাব দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছেন।
সূত্র: সিএনএন
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন