ফিলিস্তিনের পক্ষে মতামতধর্মী নিবন্ধ লেখাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার ও ভিসা বাতিলের হুমকির মুখে পড়েন রুমেইসা ওজতুর্ক। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি নিজের পিএইচডি সম্পন্ন করে সফলভাবে তুরস্কে ফিরে গেছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চে টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থী হিসেবে রুমেইসা ওজতুর্কসহ কয়েকজন ‘টাফটস ডেইলি’তে একটি মতামতধর্মী নিবন্ধ লেখেন। সেখানে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডকে “গণহত্যা” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর এক বছর পর ট্রাম্প প্রশাসন ওই লেখার সূত্র ধরে তার বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তোলে এবং শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) তাকে আটক করে লুইজিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর চলতি মাসে রুমেইসা ওজতুর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে সমঝোতা হয়। ফলে তার বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে তার মর্যাদা পুনর্বহাল করা হয়। তিনি বলেন, ১৩ বছরের একাডেমিক অধ্যয়ন শেষে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করতে পেরে গর্বিত এবং এখন নিজের দেশে ফিরে গবেষণা ও মানব উন্নয়ন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।
ম্যাসাচুসেটসের আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (ACLU) আইন পরিচালক জেসি রসম্যান বলেন, সরকারের পদক্ষেপ বেআইনি হলেও ওজতুর্ক তা মানবাধিকার ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একটি অভিবাসন আদালত আগেই রায় দিয়েছিল যে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে পরে সেই বিচারককে বরখাস্ত করা হয়। সরকারি নথিতেও দেখা যায়, ওই বিতর্কিত নিবন্ধ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলের মতো অন্য কোনো প্রমাণ ছিল না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন