ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক আলোচনা চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে পাকিস্তান। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রেখে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। মার্কিন এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরতে পেরেছে এবং ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থান পাকিস্তানকে এই মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে এগিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেরাই সংঘাতে জড়িত থাকায় বিকল্প মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন তৈরি হয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক বিশ্লেষক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক এবং নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা না থাকলে পাকিস্তানের পক্ষে এই আলোচনা আয়োজন করা সম্ভব হতো না।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে পাকিস্তান একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা হত্যার সঙ্গে জড়িত এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে সহায়তা, বাণিজ্য চুক্তি এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। ইসলামাবাদ বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টও পাকিস্তানের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান এই কূটনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবুও কূটনৈতিক মহলের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য প্রশংসা ও আস্থার কারণে ভবিষ্যতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন