যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই স্থিতিশীল বাজার হিসেবে বিবেচিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারও মামলা জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া-এ অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে সেখানে চলমান মামলা ও তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মালয়েশিয়া পক্ষ তাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে পারে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের ওপর জোর দেয়, আর বাংলাদেশ পক্ষ আইনের শাসন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা জানায়।
জানা গেছে, নানা অভিযোগের কারণে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে। বন্ধের আগে ২০২৩ সালে প্রায় সাড়ে তিন লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী সেখানে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মানব পাচার ও চাঁদাবাজির মামলা হয়। পরে তদন্তে দেখা যায়, অভিযোগগুলোর অনেকটাই ভিত্তিহীন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত সংস্থা মামলাগুলো থেকে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশও করে।
পরবর্তীতে একই ধরনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) মামলা করে, যা নিয়ে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন সংস্থার তদন্তে মানব পাচার বা অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। এদিকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে মামলাগুলো প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ফলে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার উদ্যোগ থমকে যায়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমবাজার পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে মামলাগুলোর নিষ্পত্তিকে চিহ্নিত করা হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়া পক্ষ অভিবাসন ব্যয় কমাতে ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেয়। দুই পক্ষই শ্রমবাজার দ্রুত চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হলেও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত বর্তমানে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন