বাংলাদেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের একটি বিস্তৃত জাতীয় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ প্রযুক্তির ব্যবহারকারী দেশ থেকে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রয়োগে অগ্রণী অবস্থানে পৌঁছাবে। পরিকল্পনার আওতায় নাগরিক সেবায় কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, পরিবারে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, এবং সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার যানজট কমাতে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড, শিক্ষায় স্মার্ট লার্নিং সিস্টেম এবং দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া ভূমি, কর, ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সেবায় একক ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। আইসিটি খাতে নতুন করে প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আরও আট লাখ কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর ও শিল্প স্বয়ংক্রিয়করণ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য জাতীয় ই-ওয়ালেট ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দৈনন্দিন সব ধরনের আর্থিক লেনদেন সহজে ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করা যায়। দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা আইন ও অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।
ডেটা সুরক্ষার জন্য দেশে আধুনিক ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে। সরকারের পরিকল্পনায় সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিং কৌশলও যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কানেক্টিভিটি, একক ডিজিটাল পরিচয় ও ওয়ালেট ব্যবস্থা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে এআই ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সেবা খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের উপদেষ্টা ও মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন