ইউক্রেনের কাছ থেকে চুরি করা শস্য বহনকারী একটি রুশ জাহাজকে ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে কিয়েভ। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ‘এবিআইএনএসকে’ নামের এই জাহাজটি রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় বন্দরগুলো থেকে ছোট নৌযানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা শস্যে বোঝাই করা হয়েছে। এ বিষয়ে মিরোতভোরেটস সেন্টারের সিক্রাইম প্রকল্পের সাংবাদিক কাতেরিনা ইয়ারেস্কো তথ্যটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কিয়েভ জানিয়েছে, আলোচনায় আন্দ্রি সিবিকা ইসরায়েলকে স্পষ্টভাবে জানান—চুরি করা কৃষিপণ্য বহনকারী জাহাজকে তাদের বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের কৃষিপণ্য লুট করে অবৈধভাবে রপ্তানি করা রাশিয়ার বৃহত্তর যুদ্ধ কৌশলের অংশ। ইউক্রেনের মতে, এসব চুরি করা শস্য বিক্রি করে যে অর্থ আয় হচ্ছে, তা রাশিয়া তাদের সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে। তাই এ ধরনের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে ইসরায়েলকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূত ইয়েভজেন কর্নিচুক গত ২৭ মার্চ ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আগেই জাহাজটিকে বন্দরে নোঙর করতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। পরে ইউক্রেনের অ্যাটর্নি জেনারেল কিয়েভে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইকেল ব্রডস্কির সঙ্গে বৈঠক করে জাহাজটিকে হাইফা বন্দর ত্যাগে বাধা দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক দাবি জানান। যাতে জাহাজটি কোনোভাবেই অবৈধ পণ্য নিয়ে বন্দর ছাড়তে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও ইউক্রেনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জাহাজটি আটক বা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসরায়েল কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন