ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদির জালে এক হালি গোল দিয়ে জয় পেলো স্পেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন লিটন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মারা গেছেন আওয়ামী লীগের মতো খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে বিএনপিকেও দেশছাড়া করবে জনগণ: শিবির সভাপতি স্টারমার পদত্যাগ করবেন, দাবি ট্রাম্পের—নাকচ করল ডাউনিং স্ট্রিট তারেমির গোল ভিএআরে বাতিল, ইরানের রক্ষণে আটকা বেলজিয়াম নড়াইলে ব্রাজিল সমর্থককে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, বন্ধুকে আইনি নোটিশ তারেমির গোল ভিএআরে বাতিল, ইরানের রক্ষণে আটকা বেলজিয়াম অবিশ্বাস্য প্রতিরোধে বেলজিয়ামকে আটকে দিলো ইরান হাসনাতসহ সঙ্গীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে পুলিশের কাছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগ

যুদ্ধ নয় শান্তি : ধ্বংসের বিরুদ্ধে মানবতার আহ্বান

মানব সভ্যতার ইতিহাস মূলত দুটি প্রবাহে বয়ে এসেছে—সৃষ্টি ও ধ্বংস। সভ্যতা যত এগিয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যত উন্নত
  • আপলোড সময় : ৮ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৪৩ সময়
  • আপডেট সময় : ৮ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৪৩ সময়
যুদ্ধ নয় শান্তি : ধ্বংসের বিরুদ্ধে মানবতার আহ্বান

মানব সভ্যতার ইতিহাস মূলত দুটি প্রবাহে বয়ে এসেছে—সৃষ্টি ও ধ্বংস। সভ্যতা যত এগিয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যত উন্নত হয়েছে, মানুষ তত উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে; তবুও বারবার যুদ্ধের মাধ্যমে ধ্বংস এসেছে। যুদ্ধ হঠাৎ শুরু হয় না; এর পেছনে থাকে দীর্ঘমেয়াদী অবিশ্বাস, স্বার্থের সংঘাত, ক্ষমতার লড়াই এবং নিরাপত্তাহীনতা। কোনো দেশ আধিপত্য বিস্তার চায়, কোনো দেশ নিজ অস্তিত্ব রক্ষায় লড়ে, আবার কোথাও ধর্ম, জাতি বা সীমান্ত নিয়ে বিরোধ সংঘাতের জন্ম দেয়।


মানবতা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি

যুদ্ধের পরিণতি সর্বদাই ধ্বংসাত্মক—প্রাণহানি, রক্তপাত, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, শরণার্থী সংকট ও সামাজিক ভাঙন। ইতিহাসে ট্রোজান যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যযুগের ক্রুসেড—প্রতিটি সংঘাতের পেছনে ভিন্ন কারণ থাকলেও পরিণতি একই। আধুনিক যুগে প্রযুক্তি ও অস্ত্রশক্তির উন্নয়নের ফলে যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।


প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮): প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ নিহত, ২ কোটি আহত, ক্ষতি ২০৮ বিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫): ৭–৮.৫ কোটি নিহত, ক্ষতি ৪–৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১): ৩০ লাখ নিহত, কয়েক লাখ আহত, ২ লাখ নারী নির্যাতনের শিকার, প্রায় ১ কোটি শরণার্থী।

ইরান-ইরাক যুদ্ধ (১৯৮০-১৯৮৮): ৫–১০ লাখ নিহত, ১০ লাখের বেশি আহত, অর্থনৈতিক ক্ষতি ৫০০–১,০০০ বিলিয়ন ডলার।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ, কোরিয়ান যুদ্ধ, আফগান যুদ্ধ, সিরিয়া গৃহযুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ: প্রতিটি সংঘাত লাখ লাখ প্রাণহানির পাশাপাশি বিশাল অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি ডেকে এনেছে।


যুদ্ধ ও স্বাধীনতার সংগ্রাম

সব যুদ্ধ ন্যায়সংগত নয়। অনেক সময় ‘স্বাধীনতার লড়াই’ নামে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি চলে, আবার অনেক সময় ‘বিদ্রোহ দমন’ নামে ন্যায়সংগত দাবিকেও দমন করা হয়। ইতিহাস প্রমাণ করে, যুদ্ধ কখনোই একপক্ষীয় সত্য নয়; বিজয়ীরা প্রায়শই নিজেদের বর্ণনাকে ‘সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।


শান্তির উপায়

যুদ্ধের বিকল্প রয়েছে। শান্তি গড়ে তোলার মূল উপাদান হলো—


সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা: সরাসরি বা পরোক্ষ (ব্যাক-চ্যানেল) কূটনীতির মাধ্যমে।

ন্যায়বিচার: শক্তিশালী ও দুর্বল সকলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা: পরস্পরের উপর নির্ভরশীলতা সংঘাত কমায়।

শিক্ষা ও সচেতনতা: ঘৃণা ও বিভাজন কমানো, সহনশীল মনোভাব গঠন।

দায়িত্বশীল নেতৃত্ব: উত্তেজনা বৃদ্ধি না করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজা।

মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি: অপরকে মানুষ হিসেবে দেখলে যুদ্ধের ইচ্ছা কমে।


উপসংহার

যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও, এটি কখনো লাভজনক নয়। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ক্ষতবিক্ষত করে। অতীতের যুদ্ধের ধ্বংসলীলা আমাদের সতর্ক করে—উন্নয়ন, শান্তি ও সহাবস্থানই মানবজাতির টিকে থাকার একমাত্র উপায়। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের বিজয়ী নেই; পরাজিত হয় পুরো মানবসভ্যতা।


লেখক: ফিকামলি, তত্ত্বের জনক, বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক শিক্ষক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
১ মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, মাঠে নামবেন কবে

১ মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, মাঠে নামবেন কবে