তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও চলমান সংঘাত নিরসনের উদ্দেশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পর অবশেষে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সামনে এসেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘বাস্তবসম্মত’ প্রস্তাব পেয়েছেন। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে দুই পক্ষের আলোচনার জন্য আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উভয় দেশের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে মূল শর্তগুলো হলো:
ইরানের ওপর থেকে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা,
হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা,
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সকল মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা,
ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করা,
হিমায়িত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা,
চুক্তি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক করতে জাতিসংঘে রেজল্যুশন পাস করা।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই প্রস্তাবনা কার্যকর হলে এটি ইরানি জাতির জন্য একটি বিশাল কূটনৈতিক বিজয় হবে। তবে আন্তর্জাতিক মহলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের কারণে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তারা প্রণালির ব্যবহার থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করবে এবং ওমানের সঙ্গে ভাগ করে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যয় করবে।
মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মার্ফি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে দেওয়া হলে এটি বিশ্বের জন্য একটি “মহাবিপর্যয়” ডেকে আনতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের চরমপন্থী দাবিগুলো যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মেনে নেবে এমন সম্ভাবনা কম। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক নমনীয় সুর এবং হামলা স্থগিতের ঘোষণার ফলে, ১০ দফা প্রস্তাবই ইসলামাবাদ আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে দাঁড়াবে।
বিশ্ব সম্প্রদায় আপাতত ১০ এপ্রিলের বৈঠকের দিকে নজর রাখছে, যেখানে নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফিরবে নাকি সংঘাত আরও ঘনীভূত হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন