ইরানের পাহাড়ি অঞ্চলে বিধ্বস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের সময় বড় ধরনের ইরানি ফাঁদের আশঙ্কা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানের আগে পাওয়া একটি রেডিও বার্তা শুরুতে সন্দেহজনক মনে হয়েছিল মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে। তাঁদের ধারণা ছিল, এটি ইরানি বাহিনীর সাজানো কোনো প্রতারণামূলক কৌশলও হতে পারে। স্থানীয় সময় শনিবার (৪ এপ্রিল) পরিচালিত এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে আহত অবস্থায় ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা ওই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। তার ভাষ্যমতে, প্রায় ২০০ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনা এতে অংশ নেন। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানি বাহিনী কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি ভূপাতিত করেছিল।
উদ্ধার অভিযানের সময় ওই ক্রু সদস্য রেডিওতে একটি ধর্মীয় বাক্য উচ্চারণ করেন, যা প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হয়। এতে সন্দেহ দেখা দেয় যে তিনি হয়তো ইরানি বাহিনীর হাতে বন্দি। তবে পরে তার পরিচিতদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ এবং এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের কথা বলা স্বাভাবিক। অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার দাবি অনুযায়ী, হাজার হাজার ইরানি সেনা ও স্থানীয় লোকজন ওই সেনাকে খুঁজছিল। এর আগে এক ক্রু সদস্যকে দিনের আলোতেই উদ্ধার করা হলেও দ্বিতীয়জনকে উদ্ধারে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় এবং ইরানের ভেতরে অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, পুরো এলাকায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শত শত সদস্য মোতায়েন ছিল। তবুও মার্কিন কমান্ডোরা সাহসিকতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এদিকে, অভিযানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সীমিত সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সরাসরি অবস্থান শনাক্ত না করলেও গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। এমনকি উদ্ধারকারী দলকে নিরাপদ রাখতে বিমান হামলাও চালানো হয় বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন