মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পরাশক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন এক জটিল পরীক্ষার মুখে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্য রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ কৌশলকে গুরুত্ব দিয়ে ঢাকাকে নিরাপত্তা বলয়ে আরও সক্রিয়ভাবে দেখতে চাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই ঘনিষ্ঠতা চীনের দৃষ্টিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বড় সহযোগী। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীন ও ভারতের প্রতিযোগিতা ঢাকার জন্য কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কেও বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন জ্বালানি প্রকল্পে রুশ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক সমর্থন আদান-প্রদানেও দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা বজায় রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার পরিবর্তে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলই অনুসরণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য এটি এক ধরনের ‘ভারসাম্যের খেলা’। রপ্তানির জন্য পশ্চিমা বিশ্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কাঁচামাল ও বিনিয়োগের জন্য এশিয়ার দেশগুলো অপরিহার্য। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখাই এখন ঢাকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন