রাশিয়ার তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন আব্বাস আরাঘচি। শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আগে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করতে বিভিন্ন দেশকে চাপ দিলেও এখন সেই একই তেল কেনার জন্য বিশ্বের দেশগুলোর কাছে অনুরোধ করছে ওয়াশিংটন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি লিখেছেন, কয়েক মাস ধরে ভারত–কে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করতে চাপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। তার দাবি, এখন হোয়াইট হাউস ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে রাশিয়ার তেল কেনার জন্যই আহ্বান জানাচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে সমর্থন দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোরও সমালোচনা করেন তিনি। আরাঘচির মতে, ইউরোপ ভেবেছিল ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে সমর্থন দিলে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাবে, যা তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ভারত রাশিয়ার তেল কিনে যে অর্থ দেয় তা ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ জোগাতে ব্যবহার করছেন। সেই কারণে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করতে ভারতকে চাপ দেয় যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কও আরোপ করা হয়েছিল।পরে সেই শুল্ক প্রত্যাহার করে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউস দাবি করে, ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি কমিয়েছে। তবে ভারত শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে, তারা জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই নিজেদের জ্বালানি নীতি নির্ধারণ করে।
এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইরান ঘোষণা দেয় যে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ বন্ধ করতে পারে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আর এই ঘটনাকেই সামনে এনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে কটাক্ষ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন