প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার বিষয়েও সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। শুক্রবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, সমৃদ্ধি গড়ে ওঠে সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে, বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে নয়। ইফতারের আগে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, এই আয়োজন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও ঐক্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। এসব মূল্যবোধই একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজের ভিত্তি।
তিনি জানান, সরকার নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ নীতি অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করবে এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করবে। পাশাপাশি জনগণ ও বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের মাধ্যমেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে। প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ সময় তিনি জানান, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা জোরদার, পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যাতে পরিবার ও কৃষকদের লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়া যায়। জলবায়ু ইস্যুতে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থনের আহ্বান জানান। ইফতার মাহফিলে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিরা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন