মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপরও। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় তেল ও এলএনজি সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি বন্ধ বা ঝুঁকির মধ্যে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ১৫ দিনের মজুত থাকলেও সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলএনজি নিয়ে। দেশের মোট গ্যাসের চাহিদার ৩০ শতাংশের বেশি পূরণ হয় আমদানিকৃত এলএনজি দিয়ে, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে—বিশেষ করে কাতার ও ওমান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে এলএনজি আমদানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং সার কারখানাগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কিছু এলএনজি কার্গোর বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে পাইপলাইনে থাকা জ্বালানি ও বিদ্যমান মজুত দিয়ে স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে সরকারের ভর্তুকির চাপ বাড়বে এবং দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু জ্বালানি নয়, শিল্প উৎপাদন, দ্রব্যমূল্য, এমনকি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন