রাজধানীর ব্যস্ততম মোড়গুলোর একটি আসাদ গেট—অনেকেই প্রতিদিন এখানে যাতায়াত করেন, কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন এই নামের পেছনের ইতিহাস। এই গেট শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের এক জ্বলন্ত প্রতীক। শহিদ আসাদ, যার পূর্ণ নাম আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ছিলেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রনেতা। ১৯৪২ সালে নরসিংদীর শিবপুরে জন্ম নেওয়া এই তরুণ ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
তার মৃত্যু আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। আসাদের রক্তমাখা শার্ট হাতে নিয়ে রাজধানীতে বের হয় ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শোক মিছিল। ক্ষুব্ধ জনতা মোহাম্মদপুরের ‘আইয়ুব গেট’ ভেঙে সেখানে রক্ত দিয়ে লিখে দেয় ‘আসাদ গেট’—যা পরিণত হয় প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীকে। শুধু ইতিহাস নয়, সাহিত্যেও আসাদ অমর হয়ে আছেন। কবি শামসুর রাহমানের বিখ্যাত কবিতা ‘আসাদের শার্ট’ তাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। পাশাপাশি আল মাহমুদ ও হেলাল হাফিজের কবিতাতেও উঠে এসেছে আন্দোলনের সেই উত্তাল সময়, যেখানে আসাদ হয়ে ওঠেন সংগ্রামের প্রতীক।
আসাদ ছিলেন শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন। তিনি সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতেন। দরিদ্রদের জন্য নৈশ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আইন পেশায় যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষকে সহায়তা দেওয়া—এমন নানা পরিকল্পনা ছিল তার। শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছাও ছিল তার মধ্যে। তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রদান করে। নরসিংদীতে তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শহীদ আসাদ কলেজ।
আজকের আসাদ গেট কেবল একটি নাম নয়—এটি একটি ইতিহাস, একটি আন্দোলন, এবং এক তরুণের আত্মত্যাগের চিরন্তন স্মারক।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন