সুনামগঞ্জে আদালত চত্বরে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জামিন সংক্রান্ত নথি জেলহাজতে পাঠানোর বিনিময়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন।
জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের হাজতখানায় দায়িত্বরত এক এএসআই ও এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তারা সরকারি দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিয়ে একজন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ দাবি করছেন, যা সরকারি নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
এই ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি, সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে একটি তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে স্থায়ী বরখাস্তও থাকতে পারে। আদালত প্রাঙ্গণে এমন অনিয়ম জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন