বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপি এবং উচ্চ সুদের হার বর্তমান বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এমন পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋণখেলাপির বোঝা, সুদের হার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতার অভাব দেশের ব্যবসা পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
সিপিডির প্রতিবেদনটি শনিবার ঢাকা শহরের ধানমণ্ডিতে অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত : ১৮০ দিন ও তারপর’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়। সিপিডির মতে, ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের সমস্যা থাকলেও এ মুহূর্তে এটি ব্যাংকগুলোর মূলধন সক্ষমতা দুর্বল করে ফেলেছে এবং সুদের হার বাড়িয়ে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।
সিপিডির মতে, উচ্চ সুদের হার ব্যবসায়িক পরিবেশে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য খাতে ঋণের সুদ অনেক সময় দুই অঙ্কে পৌঁছে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল নয়। এ কারণে অনেক উদ্যোক্তা তাদের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ পেতে পারছেন না।
ঋণখেলাপির পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল তদারকি বড় ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেছে সিপিডি। অনেক বড় ঋণগ্রহীতা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করেও নতুন ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন, যা ব্যাংকিং শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছে এবং সৎ গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ পাচ্ছেন না এবং অনেকেই উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা ব্যবসার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সিপিডি এ খাতের জন্য স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে বিশেষ তহবিল গঠনের সুপারিশ করেছে।
সিপিডি আরো জানায়, ব্যাংকিং খাতে সুদের হার বৃদ্ধি সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে হচ্ছে। এর প্রভাব উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগে পড়ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে ফেলতে পারে। সিপিডি মনে করে, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ছাড়া সরকারের অন্য কোনো অর্থনৈতিক উদ্যোগ টেকসই হবে না। এছাড়া, সিপিডি সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে কয়েকটি সুপারিশ করেছে, যেমন—বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা বন্ধ করা, ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে পেশাদারি নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি শক্তিশালী করা।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, "বর্তমান অর্থনৈতিক চুক্তিগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী সরকারের চুক্তি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থে ক্ষতিকর হতে পারে।"
সিপিডি বাংলাদেশ সরকারকে এসব বিষয় পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন