বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণ, খুন, মব সৃষ্টির মতো ঘটনাগুলি অতীতের তুলনায় আরও বেশি হওয়ায় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা থানা থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ পদ পর্যন্ত সবার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পরিস্থিতি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কালীগঞ্জ উপজেলার থানা এলাকায় বিএনপি কর্মী উলাদ হোসেনকে মারধর এবং ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় শিশু তাসলিমা আক্তার হত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। শুধু রাজনৈতিক সহিংসতাই নয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও আক্রান্ত হচ্ছে, পুলিশসহ বেশ কয়েকজন সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন।
এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির গতকাল মাদক, মব সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর অধীনে বিশাল অভিযান শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে, বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হয়ে পুলিশের যোগ্য এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়নের কথা বলছেন। ক্রিমিনোলজি বিশেষজ্ঞ ড. ওমর ফারুক মন্তব্য করেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা না যায়, তবে দেশের অপরাধী মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।"এদিকে, আইজিপির নতুন নির্দেশনায় একাধিক অপরাধ ও সহিংসতা মোকাবেলা করার জন্য বিশেষ দল গঠন, পুলিশ প্রশিক্ষণ, এবং স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় থানা ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করেছে। তবে, নতুন আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন