ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
গুমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মাস্টারমাইন্ডদের বিচার করতে হবে মজলুমদের হাত দিয়ে যে আইন হচ্ছে, তা গুমের পথ সুগম করবে: এমপি আরমান আইনের বইয়ের পাশাপাশি মামলার খুঁটিনাটিও জানতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের কলকাতা পুলিশের রংপুরে শিক্ষকসহ চারজন হত্যা: মুচলেকা নিয়ে সিদ্ধার্থের বাবা-ভাইকে ছাড়ল ডিবি প্রেম-বিয়ে যেকোনো বিচ্ছেদেই মিলবে ৭ দিনের বেতনসহ ছুটি নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০ আদালতে এআই দিয়ে রায় লেখা অনৈতিক: প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদপুরে অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামাতে চায় র‌্যাব নেপালের বন্যায় সেই বাড়ির বারান্দায় আটকা পড়া ব্যক্তিরা উদ্ধার

বালুর ওপর শিল্পস্বপ্ন, বছর শেষেই কারখানা গড়ার প্রস্তুতি

পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তার ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সড়ক,
  • আপলোড সময় : ৮ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ২:৩৫ সময়
  • আপডেট সময় : ৮ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ২:৩৫ সময়
বালুর ওপর শিল্পস্বপ্ন, বছর শেষেই কারখানা গড়ার প্রস্তুতি ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তার ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সড়ক, ড্রেনেজসহ অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করেই চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোতেই শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।


বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদী পরিবেষ্টিত পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হয়েছে মাছ ও কৃষি ঘিরে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ ঘটলেও স্থায়ী কর্মসংস্থান ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সেই বাস্তবতায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড।


পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে।


এর পাশাপাশি এলাকায় দুটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। আরো একটি একই ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও বন্দর সুবিধার সমন্বয়ে পটুয়াখালী এখন দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠছে।

এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।


সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের বালু ভরাটের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা।

কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত

দেশের তৃতীয় সামুদ্রিক বন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দরের পাশেই গড়ে উঠছে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।


পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নত যোগাযোগের সুবিধায় কম সময় ও কম খরচে কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বিনিয়োগের পাশাপাশি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ আর শ্রমিক সহজ প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। এসব কারখানায় প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। প্রত্যেক শ্রমিকের আয়ের ওপর গড়ে আরো দুইজন পরিবারের সদস্য নির্ভর করবেন। সে হিসাবে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইপিজেডকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবেন।


ইপিজেডে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লে আশপাশের এলাকায়ও এর প্রভাব পড়বে। হোটেল-রেস্তোঁরা, গণপরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ নানা সেবামুখী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ইপিজেড চালু হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাছ ধরা ও কৃষিকাজে নির্ভরশীল দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ তখন গার্মেন্টস, ম্যানিকুইন হেড ও উইগ, লাগেজ, গাড়ির সিট হিটার, সার্জিক্যাল গাউন, প্লাস্টিক পণ্যসহ নানা রপ্তানিমুখী শিল্পে কাজের সুযোগ পাবেন।


অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সুবিধা

এক হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী ইপিজেডে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট থাকবে। এর মধ্যে এক  হাজার ১০৫ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৩৩৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।


প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ লাখ মিটার সড়ক, ৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ, চারটি ছয়তলা কারখানা ভবন, তিনটি দশতলা অফিস ভবন, আবাসিক ভবন, কাস্টমস ও জোন অফিস, নিরাপত্তা অফিস এবং একটি হেলিপ্যাড। পাশাপাশি জমিদাতা ১৫৪ পরিবারের জন্য পুনর্বাসন আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে থাকবে পুকুর, মসজিদসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।


নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৪টি সাবস্টেশন, ১৫ কিলোমিটার ১১ কেভি হাই-টেনশন লাইন এবং একটি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলেই প্লট বরাদ্ধ শুরু হবে।


জুনে প্লট বরাদ্দ, পরে শিল্পস্থাপন

পটুয়াখালী ইউপিজের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জমিদাতা পরিবারগুলোর আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছে। ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট ও স্কুলসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।


শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, বালু ভরাট শেষে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময় প্লট বরাদ্ধ দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা এই বছরের শেষের দিকে শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতেন পারবেন।


পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড যুক্ত হলে উপকূলীয় অর্থনীতির চাকা নতুন গতিতে ঘুরবে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়ার প্রতীক। 

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস