ব্রিটিশ ভারতে সরকারি উদ্যোগে হাতে গোনা যে কয়টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল, তার একটি ফরিদপুর জিলা স্কুল। আজ থেকে ১৮৫ বছর আগে ১৮৪০ সালে যাত্রা শুরু করে এ বিদ্যালয়টি। শুরু থেকেই এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, আন্দোলন ও সংগ্রামে এ স্কুলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কালের বিবর্তনে মর্যাদা ও গৌরবে আজো এ বিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের সেরা বিদ্যালয় হিসেবে তার স্বকীয় ভাবমূর্তি বজায় রেখেছে।
দুই দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে ফরিদপুর জিলা স্কুলের গৌরবময় ১৮৫বর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী আয়োজিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় জাতীয় এবং উদযাপন পতাকা উত্তোলন, সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, শপথবাক্য পাঠ ও ব্যানার, ফেস্টুন, ঘোড়া-গাড়ীসহ সুসজ্জিত আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে শহর প্রদক্ষিণের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা।
এছাড়া পরেরদিন শুক্রবার রাতে র্যাফেল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নির্ধারিত ব্যান্ড-সংগীত শিল্পী জেমস এর পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে শেষ হবে বর্ণাঢ্য এ উৎসবের আয়োজন। বর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সফল করতে গঠন করা হয়েছে গৌরবময় ১৮৫ বর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটি।
২১ সদস্য বিশিষ্ট এ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ফরিদপুরের বিশিষ্ট চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান শামীম ও সদস্য সচিব ওয়াহিদ মিয়া কুটি। পাশাপাশি কাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে গঠন করা হয়েছে ১৮টি উপ-কমিটি।
উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম বলেন, এ উৎসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের প্রাণের স্কুলের সমৃদ্ধ অতীত ও ঐতিহ্য সকলের সামনে তুলে ধরা। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে তাদের অতীত ও ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
এ কমিটির সদস্য সচিব ওয়াহিদ মিয়া কুটি বলেন, আমরা আমাদের অনুষ্ঠানকে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছি। এ আয়োজনে আমরা কোন প্রধান বা বিশেষ অতিথি রাখিনি। বিদ্যালয়ের বাইরের কাউকে আমরা এ আয়োজনে আমন্ত্রণ যুক্ত করিনি। আমরা জিলা স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান সকল শিক্ষার্থীরাই প্রধান এবং বিশেষ অতিথি।
অনুষ্ঠানসূচীর মধ্যে রয়েছে প্রথমদিন বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় উপস্থিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়।
সকাল ৯টা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি। বেলা ১১টা স্কুল উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিষয়ক আলোচনা। বেলা সাড়ে ১১টা স্মৃতিচারণ ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। দুপুর ১টায় মধ্যাহ্ন বিরতি। বিকাল ৩টায় স্মৃতিচারণ ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় আঁতশবাজি উৎসব। সন্ধ্যা ৬টায় স্কুলের ইতিহাস ও ঐহিত্য নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং সাড়ে ৬টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এছাড়া দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় মিনি ম্যারাথন। সকাল ৯টায় স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। সকাল ১০টায় পিঠা উৎসব ও সঙ্গীতানুষ্ঠান। বেলা ১১টায় স্মৃতিচারণ ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। বিকাল ৩টায় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান। ৬টায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠান। পরে সাড়ে ৬টায় র্যাফেল ড্র। রাত সাড়ে ৭টা থেকে ব্যান্ড-সংগীত শিল্পী জেমস এর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন