অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গোলাগুলির ঘটনায় মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। ইহুদিদের ‘হানুক্কাহ’ উৎসবে এমন আকস্মিক হামলায় স্তব্ধ গোটা দেশ। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে আরও কঠোর অস্ত্র আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন বলে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরণর কাপুরুষোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
এ লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান আলবানিজ। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র যেন বেসামরিকদের হাতে না পৌঁছাতে পারে যে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সন্দেহভাজন হামলাকারীরা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলেই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৫০ বছর বয়সী বাবার। ২৪ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও।
এতে আহত হয়েছে কমপক্ষে আরও ৪০ জন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করে চলছে তদন্ত। সন্দেহভাজন বাবা-ছেলের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার 'অস্ত্র আইন' বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কঠোর আইন হলেও সম্প্রতি বন্ডি সমুদ্র সৈকতে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় দেখা যায় যে এই আইনও রক্তপাত রোধে পর্যাপ্ত নয়।
এর আগে, ১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ায় একজন বন্দুকধারীর গুলিতে ৩৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পরে এটাই অস্ট্রেলিয়ায় সশস্ত্র হামলায় এতো হতাহতের ঘটনা ঘটলো।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন