নতুন সব স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি সাইবার সুরক্ষা অ্যাপ ইনস্টল করার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। অনলাইন প্রতারণা, সাইবার অপরাধ ও নকল মোবাইল ডিভাইসের ব্যবহার ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ।
নির্দেশনাটি সরাসরি স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে এবং ৯০ দিনের মধ্যে তা বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, ফোনের বৈধতা যাচাই ও টেলিকম প্রতারণা নিয়ন্ত্রণে এই অ্যাপ প্রয়োজন।
সরকারি অ্যাপটির নাম ‘সঞ্চার সাথী’। একাধিক সুবিধা রয়েছে এতে—ফোনের আইএমইআই নম্বর যাচাই, হারানো বা চুরি হওয়া ফোন রিপোর্ট করা এবং প্রতারণামূলক যোগাযোগ শনাক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন ইউজাররা। বর্তমানে, ১২০ কোটির বেশি মোবাইল ব্যবহারকারীর দেশ ভারত বিশ্বে অন্যতম বড় স্মার্টফোন বাজার। তাই ব্যবহারকারীদের সরক্ষায় অ্যাপটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দেশটির আইনপ্রণেতারা।
এদিকে ভারতের টেলিকম বিভাগ বলছে, নকল আইএমইআই ব্যবহারকারী ডিভাইস সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। পাশাপাশি চুরি হওয়া বা কালো তালিকাভুক্ত ফোন পুনর্বিক্রির ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফোন সেটআপের সময় থেকেই অ্যাপটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে এবং সহজে ব্যবহার করা যাবে। ব্যবহারকারী চাইলে এটি বন্ধও করতে পারবেন না। এছাড়া সব কোম্পানিকে ১২০ দিনের মধ্যে নির্দেশনা মানার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ টেলিকম নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, সঞ্চার সাথী অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৭ লাখের বেশি হারানো ফোন উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
যদিও গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপটি বলছে, তারা কোনো ব্যবহারকারীর ডেটা সংগ্রহ বা শেয়ার করে না—তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অ্যাপটির কার্যপ্রণালী সম্পর্কে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এদিকে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্দেশনা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ বেশির ভাগ কোম্পানি, বিশেষ করে অ্যাপল, সরকারি বা থার্ড-পার্টি অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করতে দেয় না। রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যাপল ইতোমধ্যে এই নির্দেশনায় অনীহা প্রকাশ করেছে।
রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশেও ফোনে সরকারি অ্যাপ বাধ্যতামূলক করার নীতি চালু রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন