নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি গার্লস সেকেন্ডারি স্কুলে সশস্ত্র হামলায় এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৫ ছাত্রীকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) স্থানীয় সময় ভোররাতে (সকাল ৪টার দিকে) কেব্বি অঙ্গরাজ্যের মাগা এলাকার গভর্নমেন্ট গার্লস কমপ্রিহেনসিভ সেকেন্ডারি স্কুলে হঠাৎ হামলা চালায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। হামলাকারীরা প্রথমে স্কুলের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে তারা কাঁটাতারের বেষ্টনী টপকে ছাত্রাবাসে ঢুকে ছাত্রীদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছাত্রীদের রক্ষা করতে গিয়ে স্কুলের একজন শিক্ষক নিহত হন এবং আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা—যাদের স্থানীয়ভাবে ‘ব্যান্ডিট’ বলা হয়—এলাকায় ঢুকেই আতঙ্ক ছড়াতে নির্বিচারে গুলি ছোড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অপহরণের পর অস্ত্রধারীরা ছাত্রীদের নিয়ে পাশের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ট্যাকটিক্যাল ইউনিট, সামরিক বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দল মোতায়েন করা হয়েছে। আশপাশের বনাঞ্চল ও সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে সমন্বিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
গত এক দশকে উত্তর নাইজেরিয়ার বহু স্কুল একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করা বা সরকারের সঙ্গে দর-কষাকষি করাই এসব গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাইজেরিয়া সরকার মুক্তিপণ দেয়া নিষিদ্ধ করেছে, যদিও হামলার হার কমেনি।
এটি গত মার্চের পর দেশটিতে সংঘটিত প্রথম বড় ধরনের স্কুল অপহরণ। উল্লেখ্য, গত মার্চে, কাদুনা রাজ্যের কুরিগা এলাকা থেকে ২০০-র বেশি শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছিল।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন