মা ইলিশ রক্ষায় উপকূলজুড়ে চলছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এই সময়ে ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযান চলছে দিন-রাত, আটক হচ্ছেন জেলেরা, জব্দ হচ্ছে জাল ও ট্রলার। কিন্তু বরগুনার তালতলীর ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকায় এবার অভিযোগ উঠেছে সরকারের মৎস্য প্রকল্পের এক মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে।
নিষিদ্ধ মৌসুমে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে তালতলী উপজেলা মৎস্য অফিসের দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ সহায়ক আবুল কাসেম ওরফে রিংকু এবং তার বাবা জলিল ফকিরের বিরুদ্ধে। রিংকু নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সহ-সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তার বাবা জলিল ফকির উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
অভিযোগ, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাবা-ছেলের মদদে তাদের নিজেদের ট্রলারেই জেলেরা সাগরে গিয়ে ইলিশ শিকার করে আড়তে মজুদ করছিলেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে তালতলী উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে তদন্ত করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।টাইফয়েড টিকা শরীরের কোথায় প্রদান করা হয়?
টাইফয়েড টিকা শরীরের কোথায় প্রদান করা হয়?
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াসকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জিব চন্দ্র সাহা। কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার আদেশ হাতে পেয়েছেন।
তারা কাজ শুরু করেছেন।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আমতলীর ইউএনও মো. রোকনুজ্জামান খান তদন্ত কমিটির আদেশে স্বাক্ষর করেন। তদন্তের আদেশের একটি অনুলিপি সংবাদমাধ্যমের কাছেও পৌঁছেছে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে ভিড়েছিল দুটি ট্রলার। স্থানীয়দের দাবি, ওই ট্রলার দুটির মালিক রিংকু ও তার বাবা জলিল ফকির।
রাত দেড়টার দিকে ট্রলারের শব্দ শুনে স্থানীয় জেলে আমির হোসেন ও রুবেল ইসলাম ঘাটে যান। তারা জানান, রিংকু ও তার বাবার মদদে জেলেরা ট্রলারভর্তি ইলিশ নামাচ্ছিলেন। মাছগুলো ড্রাম ও বস্তায় ভরে তাদের (বাবা-ছেলে) আড়তে মজুদ করা হচ্ছিল।
আমির হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন জেলে বাধা দিলে উল্টো তাদের ভয় দেখানো হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ফকিরহাটের বাবা-ছেলের আড়তে রক্তমাখা তাজা ইলিশের স্তূপ।
আড়তের ম্যানেজার আল আমিন প্রথমে দাবি করেন, ইলিশ মাছ আগের দিনের। কিন্তু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জানান, ‘রাতেই মাছ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’মাঠ সহায়ক রিংকু অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবার আড়তের ব্যবসা আছে। রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতেই আমাকে জড়ানো হচ্ছে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি। তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত করলেই সত্যতা বেরিয়ে আসবে।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি নদীতে টহলে ছিলাম। সোমবার সকালে শুনেছি রিংকু ও তার বাবার ট্রলারে ইলিশ ধরা পড়েছে। অফিসের কেউ অনিয়ম করলে তার দায় আমি নেব না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন