ফিলিস্তিনের গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলা তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে গত একদিনে অন্তত ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ৩ অক্টোবর, শুক্রবার আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় গাজা সিটি ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই হামলার ফলে হাজারো ফিলিস্তিনি জনগণ দক্ষিণ গাজা অঞ্চলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তবে তাদের ওপরও হামলা চলছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, গাজা সিটিতে থেকে যাওয়া সবাইকে ‘সন্ত্রাসী কিংবা সন্ত্রাসীদের সমর্থক’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং যাঁরা শহর ছাড়বেন না, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া হামলায় গাজা সিটিতে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন, এবং একাধিক আবাসিক ভবন ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, দক্ষিণ গাজা অঞ্চলে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে আরো ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, গাজার চলমান দুর্ভিক্ষের কারণে খাদ্য সংগ্রহের সময় এই হামলাগুলোর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এই ইসরায়েলি হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, গাজায় বসবাসরত মানুষকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা 'পরিকল্পিত গণহত্যার' পূর্বাভাস দিতে পারে, যা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
বর্তমানে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনের কারণে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ২২৫ জনে, এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৮ জন। চলমান সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন