ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষ বলছে আর কখনো বিএনপিকে ভোট দেব না: অ ইতালির ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী সরকারের রেকর্ড এখন জর্জিয়া মেলোনির ‘আমরা ফটোসেশনের রাজনীতি করি না’, বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী দেশ কিছুটা স্থিতিশীল, তবে শক্তিশালী ভিত্তি দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম কালীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০ ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের আইওএস ২৭ আনছে অ্যাপল, থাকবে নতুন অত্যাধুনিক সব আপডেট ক্ষুদ্রঋণ ও ব্যবসা নিয়ে ড.ইউনূসের পরামর্শ চাইতে ঢাকায় ইন্দোনেশীয় প্রতিনিধিদল পথচারীকে চাপা দিয়ে মাদ্রাসায় ঢুকে পড়ল বাস সেপ্টেম্বরের শেষেই সারাদেশে শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগে মানা হচ্ছে না নিয়ম

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (নিখাক) চেয়ারম্যান নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে প্রশাসন ক্যাডারকে। নিখাকের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে যে আইন
  • আপলোড সময় : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, দুপুর ২:৩৯ সময়
  • আপডেট সময় : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, দুপুর ২:৩৯ সময়
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগে মানা হচ্ছে না নিয়ম প্রতীকী ছবি
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (নিখাক) চেয়ারম্যান নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে প্রশাসন ক্যাডারকে। নিখাকের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে যে আইন রয়েছে সেগুলো মানা হচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি, খাদ্য শিল্প বা খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যভোগ ও ভোক্তা-অধিকার এবং খাদ্য বিষয়ক আইন ও নীতি বিষয়ে কমপক্ষে ২০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে নিয়োগের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত সব চেয়ারম্যানই প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

আইনে (বাংলাদেশ গেজেট, অক্টোবর ১০, ২০১৩) নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নিয়োগের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা হিসেবে বলা হয়েছে, খাদ্য বিষয়ে অন্যূন ২৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি, খাদ্য শিল্প বা খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যভোগ ও ভোক্তা-অধিকার এবং খাদ্য বিষয়ক আইন ও নীতি বিষয়ে কমপক্ষে ২০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রত্যেক বিষয় থেকে একজন করে সদস্য হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন। একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে। তাদের মেয়াদ হবে চার বছর।  

এখন পর্যন্ত সব চেয়ারম্যানই প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগ হয়, তারা নিজেরাই সব নিয়ন্ত্রণ করেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জনপ্রশাসনে নিয়োগ চেয়ে চাহিদা পাঠান। তিনিও তো প্রশাসন ক্যাডারেরই লোক। এছাড়া নিখাকে গত কয়েক মাস থেকে তিন জন সদস্যের পদও খালি পড়ে রয়েছে। এতে কাজেরও ব্যাঘাত ঘটছে।  

চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত যারা এসেছেন তাদের মধ্যে খাদ্য বিষয়ে পেশাগত অভিজ্ঞতা কার ভালো ছিল, জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিখাকের সাবেক এক সদস্য দ্য ডেইলি মেসেঞ্জারকে বলেন, মোহাম্মদ মাহফুজুল হকের ছিল, তিনি খাদ্য ভবন বসতেন। ডিজি ছিলেন। বিসিএস ফুডের। উনার রিসার্চ না থাকলেও এই সেক্টরে কাজ করেছেন। বাকিদের মধ্যে কারো ১৫ দিনের প্রশিক্ষণও নাই।

সদস্য পদে যারা এসেছেন তাদের মধ্যে খাদ্য বিষয়ে পেশাগত অভিজ্ঞতা কার ভালো ছিল, জানতে চাইলে ওই সদস্য বলেন, ‘প্রশাসন থেকে যারা এসেছেন, তাদের নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু, ঢাকা ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজির মালেক স্যার ও কেমিস্ট্রি বিভাগ থেকে এসেছিলেন ইকবাল স্যার, তাদের ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। মাইক্রোবায়োলজি ও কেমিস্ট্রিও ফুডেরই একটা অংশ। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) মাজেদা ম্যাডামের ৩০-৩৫ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল।

নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন চেয়ারম্যান দ্য ডেইলি মেসেঞ্জারকে বলেন, এটা (আইন) মানলে বিপদ। এখন যিনি চেয়ারম্যান, তিনি খাদ্যের ‘খ’ও জানেন না। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মুশতাক হাসান মুহ: ইফতিখার। 

নিদখাকের আগে খাদ্য বিষয়ক কোনো দপ্তরে ছিলেন কিনা জানতে চাইলে নিখাকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বলেন, না, ছিলাম না। এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ছিলাম। তারপর চারবছর ওএসডি। তারপর নিখাকের চেয়ারম্যান হই। 

নিখাক আইন অনুযায়ী আপনাকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগে আইনের লঙ্ঘন হলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন একটু আলাপ উঠেছিল, শুরুতে প্রশাসনের লোক তুলনামূলক ভালো করবে। আমার স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে মাস্টার্স ছিল, আমি আইনেরও ছাত্র। পাঁচ বছর আইনে পড়েছি। আমার দুটো ব্যাকগ্রাউন্ডই ভালো রয়েছে, সাইন্স ও আইন এবং প্রশাসনের লোক। এসব হিসাব করেই আমাকে নিয়োগ দিয়েছে।

২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি অর্থনীতির ছাত্র। এর আগে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) সদস্য ছিলেন। 

২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা সারওয়ার জাহান আইসিটি মন্ত্রণালয়ে ছিলেন।

নিখাকে আসার আগে খাদ্য সম্পর্কিত কোনো দপ্তরে ছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, খাদ্য সম্পর্কিত কোনো দপ্তরে ছিলাম না। ২০০৫ সালে আমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলাম। এর আগেও ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সালেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে খাদ্যসহ অন্য সব বিষয়ে কাজ করেছি। আমি বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করেছি। চেয়ারম্যান নিয়োগে প্রশাসনের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সেখানকার সচিব বলেতে পারবেন।

২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন।

২০২০ সালের ২২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাইউম সরকার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র। তার কর্মজীবন বিষয়ে নিখাকের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যও গত দুই সপ্তাহ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিষয়ে জনসংযোগ দপ্তরে যোগাযোগে করা হলেও কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।

চেয়ারম্যান নিয়োগে প্রশাসন ক্যাডারের প্রাধান্য ও নিখাক আইনের লঙ্ঘন বিষয়ে জানতে সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) নিখাক সচিব আবদুন নাসের খানের অফিসে গেলে তিনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে অুনরোধ করেন। চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম সরকারের দপ্তরে গেলে তিনি তার একান্ত সচিব অভিরূপ সাহার মাধ্যমে প্রতিবেদককে জানান, নিখাক সচিব কিংবা সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে। মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে তার দপ্তরে গেলে তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন বলে দপ্তর থেকে জানানো হয়।

নিখাকের সাবেক সদস্য প্রফেসর আব্দুল আলীম বলেন, চেয়ারম্যান নিয়োগে আইনের শর্ত মানা সম্ভব, কিন্তু হচ্ছে না। আমার নিজেরই তো খাদ্য সেক্টরে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। খাদ্য নিয়েই লেখাপড়া, পিএইচডি। ১৯৯৮ সালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছি। আমার সদস্য পদ চার বছরের জন্য বাড়াতে খাদ্যমন্ত্রী গত ১৩ জুন ডিও লেটার দিয়েছেন জনপ্রশাসনে। তারপরও সেটি এখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আটকে আছে।

জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ দেন। তিনি এখনও রয়েছেন। এছাড়া খাদ্য শিল্প বা খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যভোগ ও ভোক্তা-অধিকার এবং খাদ্য বিষয়ক আইন ও নীতিতে গত কয়েক মাস ধরে সদস্য পদ খালি রয়েছে। 

গত ১০ জুলাই স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্মসচিব (আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট অনুবিভাগ) আবু নূর মোঃ শামসুজ্জামানকে (৬৫৩৫) সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তিনি আজ মঙ্গলবার যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। 

নিয়োগে আইনের লঙ্ঘন বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তারাই নিয়োগ দেয়।

তবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে কল করা হলে খাদ্যসচিব ইসমাইল হোসেন কল রিসিভ করেননি।নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (নিখাক) চেয়ারম্যান নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে প্রশাসন ক্যাডারকে। নিখাকের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে যে আইন রয়েছে সেগুলো মানা হচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি, খাদ্য শিল্প বা খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যভোগ ও ভোক্তা-অধিকার এবং খাদ্য বিষয়ক আইন ও নীতি বিষয়ে কমপক্ষে ২০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে নিয়োগের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত সব চেয়ারম্যানই প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

আইনে (বাংলাদেশ গেজেট, অক্টোবর ১০, ২০১৩) নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নিয়োগের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা হিসেবে বলা হয়েছে, খাদ্য বিষয়ে অন্যূন ২৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি, খাদ্য শিল্প বা খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যভোগ ও ভোক্তা-অধিকার এবং খাদ্য বিষয়ক আইন ও নীতি বিষয়ে কমপক্ষে ২০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রত্যেক বিষয় থেকে একজন করে সদস্য হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন। একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে। তাদের মেয়াদ হবে চার বছর।  

এখন পর্যন্ত সব চেয়ারম্যানই প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগ হয়, তারা নিজেরাই সব নিয়ন্ত্রণ করেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জনপ্রশাসনে নিয়োগ চেয়ে চাহিদা পাঠান। তিনিও তো প্রশাসন ক্যাডারেরই লোক। এছাড়া নিখাকে গত কয়েক মাস থেকে তিন জন সদস্যের পদও খালি পড়ে রয়েছে। এতে কাজেরও ব্যাঘাত ঘটছে।  

চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত যারা এসেছেন তাদের মধ্যে খাদ্য বিষয়ে পেশাগত অভিজ্ঞতা কার ভালো ছিল, জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিখাকের সাবেক এক সদস্য দ্য ডেইলি মেসেঞ্জারকে বলেন, মোহাম্মদ মাহফুজুল হকের ছিল, তিনি খাদ্য ভবন বসতেন। ডিজি ছিলেন। বিসিএস ফুডের। উনার রিসার্চ না থাকলেও এই সেক্টরে কাজ করেছেন। বাকিদের মধ্যে কারো ১৫ দিনের প্রশিক্ষণও নাই।

সদস্য পদে যারা এসেছেন তাদের মধ্যে খাদ্য বিষয়ে পেশাগত অভিজ্ঞতা কার ভালো ছিল, জানতে চাইলে ওই সদস্য বলেন, ‘প্রশাসন থেকে যারা এসেছেন, তাদের নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু, ঢাকা ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজির মালেক স্যার ও কেমিস্ট্রি বিভাগ থেকে এসেছিলেন ইকবাল স্যার, তাদের ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। মাইক্রোবায়োলজি ও কেমিস্ট্রিও ফুডেরই একটা অংশ। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) মাজেদা ম্যাডামের ৩০-৩৫ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল।

নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন চেয়ারম্যান দ্য ডেইলি মেসেঞ্জারকে বলেন, এটা (আইন) মানলে বিপদ। এখন যিনি চেয়ারম্যান, তিনি খাদ্যের ‘খ’ও জানেন না। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মুশতাক হাসান মুহ: ইফতিখার। 

নিদখাকের আগে খাদ্য বিষয়ক কোনো দপ্তরে ছিলেন কিনা জানতে চাইলে নিখাকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বলেন, না, ছিলাম না। এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ছিলাম। তারপর চারবছর ওএসডি। তারপর নিখাকের চেয়ারম্যান হই। 

নিখাক আইন অনুযায়ী আপনাকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগে আইনের লঙ্ঘন হলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন একটু আলাপ উঠেছিল, শুরুতে প্রশাসনের লোক তুলনামূলক ভালো করবে। আমার স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে মাস্টার্স ছিল, আমি আইনেরও ছাত্র। পাঁচ বছর আইনে পড়েছি। আমার দুটো ব্যাকগ্রাউন্ডই ভালো রয়েছে, সাইন্স ও আইন এবং প্রশাসনের লোক। এসব হিসাব করেই আমাকে নিয়োগ দিয়েছে।

২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি অর্থনীতির ছাত্র। এর আগে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) সদস্য ছিলেন। 

২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা সারওয়ার জাহান আইসিটি মন্ত্রণালয়ে ছিলেন।

নিখাকে আসার আগে খাদ্য সম্পর্কিত কোনো দপ্তরে ছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, খাদ্য সম্পর্কিত কোনো দপ্তরে ছিলাম না। ২০০৫ সালে আমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলাম। এর আগেও ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সালেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে খাদ্যসহ অন্য সব বিষয়ে কাজ করেছি। আমি বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করেছি। চেয়ারম্যান নিয়োগে প্রশাসনের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সেখানকার সচিব বলেতে পারবেন।

২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন।

২০২০ সালের ২২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাইউম সরকার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র। তার কর্মজীবন বিষয়ে নিখাকের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যও গত দুই সপ্তাহ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিষয়ে জনসংযোগ দপ্তরে যোগাযোগে করা হলেও কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।

চেয়ারম্যান নিয়োগে প্রশাসন ক্যাডারের প্রাধান্য ও নিখাক আইনের লঙ্ঘন বিষয়ে জানতে সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) নিখাক সচিব আবদুন নাসের খানের অফিসে গেলে তিনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে অুনরোধ করেন। চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম সরকারের দপ্তরে গেলে তিনি তার একান্ত সচিব অভিরূপ সাহার মাধ্যমে প্রতিবেদককে জানান, নিখাক সচিব কিংবা সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে। মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে তার দপ্তরে গেলে তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন বলে দপ্তর থেকে জানানো হয়।

নিখাকের সাবেক সদস্য প্রফেসর আব্দুল আলীম বলেন, চেয়ারম্যান নিয়োগে আইনের শর্ত মানা সম্ভব, কিন্তু হচ্ছে না। আমার নিজেরই তো খাদ্য সেক্টরে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। খাদ্য নিয়েই লেখাপড়া, পিএইচডি। ১৯৯৮ সালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছি। আমার সদস্য পদ চার বছরের জন্য বাড়াতে খাদ্যমন্ত্রী গত ১৩ জুন ডিও লেটার দিয়েছেন জনপ্রশাসনে। তারপরও সেটি এখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আটকে আছে।

জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ দেন। তিনি এখনও রয়েছেন। এছাড়া খাদ্য শিল্প বা খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যভোগ ও ভোক্তা-অধিকার এবং খাদ্য বিষয়ক আইন ও নীতিতে গত কয়েক মাস ধরে সদস্য পদ খালি রয়েছে। 

গত ১০ জুলাই স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্মসচিব (আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট অনুবিভাগ) আবু নূর মোঃ শামসুজ্জামানকে (৬৫৩৫) সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তিনি আজ মঙ্গলবার যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। 

নিয়োগে আইনের লঙ্ঘন বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তারাই নিয়োগ দেয়।

তবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে কল করা হলে খাদ্যসচিব ইসমাইল হোসেন কল রিসিভ করেননি।
  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেন লিওনেল মেসি

জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেন লিওনেল মেসি