ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী মিরাজ শেখের নিখোঁজকে ঘিরে ‘গুমের কাহিনী’ সাজানোর চেষ্টা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মাস্টারমাইন্ডদের বিচার করতে হবে মজলুমদের হাত দিয়ে যে আইন হচ্ছে, তা গুমের পথ সুগম করবে: এমপি আরমান আইনের বইয়ের পাশাপাশি মামলার খুঁটিনাটিও জানতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের কলকাতা পুলিশের রংপুরে শিক্ষকসহ চারজন হত্যা: মুচলেকা নিয়ে সিদ্ধার্থের বাবা-ভাইকে ছাড়ল ডিবি প্রেম-বিয়ে যেকোনো বিচ্ছেদেই মিলবে ৭ দিনের বেতনসহ ছুটি নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০ আদালতে এআই দিয়ে রায় লেখা অনৈতিক: প্রধান বিচারপতি

মামুনের মাথার খুলি রাখা ফ্রিজে, জ্ঞান ফেরেনি সায়েমের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মামুন মিয়া। ক’দিন পরই শেষ হতো শিক্ষাজীবন। এরপর হয়তো প্রবেশ
  • আপলোড সময় : ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৫৪ সময়
  • আপডেট সময় : ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৫৪ সময়
মামুনের মাথার খুলি রাখা ফ্রিজে, জ্ঞান ফেরেনি সায়েমের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মামুন মিয়া। ক’দিন পরই শেষ হতো শিক্ষাজীবন। এরপর হয়তো প্রবেশ করতেন কর্মজীবনে। হাল ধরতেন পরিবারের। যে মামুনকে নিয়ে এমন স্বপ্ন দেখেছিল তার পরিবার; সেই মামুন এখন আছে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। রামদার কোপে তার মাথায় হয়েছে গুরুতর ক্ষত। এটি এতটা গভীরে গেছে যে, খুলে ফেলতে হয়েছে খুলির একাংশ। খুলির ভাঙা অংশ ফ্রিজে রেখে মাথা মোড়ানো হয়েছে সাদা ব‍্যান্ডেজে। কালো কালিতে সেখানে লেখা হয়েছে ‘হাড় নেই চাপ দেবেন না।’

মামুনের বড় বড় ভাই টাঙ্গাইলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। নাম মাসুদ রানা। ভাইয়ের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি। বললেন, ‘মামুন আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছে। তাকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে কি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে? যে আশা নিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালাম সেটা এখন ধুলিস্মাৎ হওয়ার পথে। ডাক্তার বলেছেন, সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। সুস্থ হলেও মেনে চলতে হবে অনেক বিধিনিষেধ।’

হাসপাতালের শয্যায় নিথর পড়ে আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরেক ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম। অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। রোববার শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘাতে তিনিও গুরুতর আহত হন। তার মাথায়ও পড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত।

চিকিৎসকরা তার মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার করেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর কেটে গেছে চার দিন তথা ৯৬ ঘণ্টার কাছাকাছি। এখনও চোখ মেলেনি সায়েম। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছেন। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

সায়েমের বাবা মোহাম্মদ আমির হোসেন ছেলের খবর শুনে বগুড়া থেকে ছুটে এসেছেন চট্টগ্রামে। হাসপাতালের করিডোরে কাটছে রাত। চোখ মুছতে মুছতে বললেন, ‘ছেলেকে অনেকবার নিষেধ করেছিলাম। বলেছিলাম, মারামারিতে যাস না। কিন্তু সে বলল, আহত বন্ধুদের হাসপাতালে নিতে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর শুনি আমার ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে সন্ত্রাসীরা। একজন মানুষ কীভাবে আরেকজনকে এভাবে কোপাতে পারে?’

পার্কভিউ হাসপাতালের স্পেশালাইজড ইউনিটের ইনচার্জ ডা. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘ইমতিয়াজ সায়েমের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুলির ভেতরের অংশ ও রক্তনালী ছিঁড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত জ্ঞান ফেরেনি। শুধু ব্লাড প্রেসারে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।’ 

মামুনের বিষয়ে তিনি জানান, তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। খুলি ফ্রিজে রাখা হয়েছে। যদি সুস্থ থাকে, দুই থেকে আড়াই মাস পর তা পুনঃস্থাপন করা হবে। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।’

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার একটি ঘটনা থেকে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। একজন ছাত্রী ভাড়া বাসায় দেরিতে ঢুকতে চাইলে দারোয়ান তার গায়ে হাত তোলেন। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং তা গ্রামবাসীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ আহত হন প্রায় ৪০০ জন। এখনও তিন শিক্ষার্থী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।  
  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস