নিজেদের স্থায়ী ক্যাম্পাস, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ একাধিক দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে ফেনী ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। দ্রুত দাবি আদায় না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৫ দফা দাবি প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করা হয়। শুরুতে প্রশাসন এসব দাবি যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে মেনে নিলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। এর মধ্যে অন্যতম দাবি ছিল নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। স্থায়ী ক্যাম্পাস না হলে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘রেড লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, তখন শিক্ষার্থীদের জীবন চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সার্ভিস চালু, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই সংযুক্ত, মুট কোর্ট রুম স্থাপন, ছাত্র সংসদ গঠন, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় জরিমানা বন্ধ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতেও আন্দোলন করছে তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এম এ আরাফাত বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব দাবি জানিয়ে আলোচনায় বসেছি। কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ ইউজিসি স্পষ্ট করেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে না গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসবে। এই দাবিগুলো শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্যও জরুরি। কিন্তু বারবার আশ্বাস দিলেও কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি। এজন্য আমরা বাধ্য হয়ে শাটডাউন কর্মসূচি দিয়েছি।’
আরেক শিক্ষার্থী সিফাত শাহরিয়ার বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে দাবি আদায় করব।’
এ বিষয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নেওয়া আগের জায়গা নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। নতুন জায়গায় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষার্থীরা বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানকে আসতে বলেছিল, তিনি শুক্রবারে আসবেন বলে জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ততদিন ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।’
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ১৫ দফা দাবি পেশ করেছিল। কর্তৃপক্ষ দাবি মানার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ২১ অক্টোবর ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আবারও একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন