ঢাকা | |

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ২৩টি দেশ গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান

গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে একযোগে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২৫টি দেশ। তারা
  • আপলোড সময় : ২২ জুলাই ২০২৫, দুপুর ১১:৬ সময়
  • আপডেট সময় : ২২ জুলাই ২০২৫, দুপুর ১১:৬ সময়
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ২৩টি দেশ গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান
গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে একযোগে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২৫টি দেশ। তারা বলেছে, ফিলিস্তিনে মানবিক বিপর্যয় ‘নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে’ এবং এই যুদ্ধের মাধ্যমে গাজার জনগণের মৌলিক অধিকারও লঙ্ঘিত হচ্ছে।

সোমবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো স্পষ্টভাবে বলেছে, “এই যুদ্ধ এখনই শেষ করতে হবে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, গাজার দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। সহিংসতা, খাদ্য সংকট, পানি ও চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে “ধীরে ধীরে মানবিক সহায়তা প্রবেশ করানো এবং শিশু ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করার” মতো অমানবিক আচরণের।

জাতিসংঘ ও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ থেকে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৭৫ জন।

বিবৃতিতে কঠোর ভাষায় বলা হয়েছে, “ইসরায়েলের ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা বিপজ্জনক, অস্থিরতা বাড়ায় এবং গাজাবাসীর মানবিক মর্যাদাকে অপমান করে।” দেশগুলো দাবি করে, ইসরায়েলের সরকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন করছে এবং অবিলম্বে বাধাহীন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

এই ২৫টি দেশের মতে, একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরির জন্য তারা প্রস্তুত এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলা হয়—“পরবর্তী যুদ্ধবিরতিই হতে হবে শেষ যুদ্ধবিরতি।”

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি পার্লামেন্টে বলেন, “এই সংকটের সামরিক কোনো সমাধান নেই। আমরা যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি। পরবর্তী যুদ্ধবিরতিই হতে হবে চূড়ান্ত শান্তির সূচনা।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,১২৯ জন নিহত এবং ২৫১ জন বন্দি হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে নিহত হয়েছেন ৫৯,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

লন্ডন থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক সোনিয়া গালেগো বলেন, “এই বিবৃতি ইসরায়েলের মিত্রদের অবস্থানে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শুধু ইউরোপ নয়—অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও জাপানসহ অনেক দেশ এবার মুখ খুলেছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ বিবৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
প্রথমবারের মতো সৌদির তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা

প্রথমবারের মতো সৌদির তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা