বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় মহাসমাবেশকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কে নেমে এসেছে লাখো মানুষের ঢল। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এ সমাবেশে যোগ দিতে রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে পায়ে হেঁটে, বাসে কিংবা মিছিল করে আসছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এতে রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে রাজধানীর পল্টন, গুলিস্তান, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাব, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, আজিমপুর, পালাশী, সায়েদাবাদ, জিরোপয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এমনকি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের খবর পাওয়া গেছে।
মিরপুর থেকে কারওয়ান বাজারে আসতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে বলে জানান যাত্রী মাজিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ঢাকায় এতো জ্যাম সাধারণত হয় না। এ ধরনের বড় সমাবেশ ঢাকার বাইরে হলে মানুষ অনেক কম কষ্ট পেত।”
এদিকে যাত্রাবাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে রাস্তায় ফিরে আসেন শহিদুল ইসলাম। কারওয়ান বাজারে পৌঁছেই তিনি যানজট দেখে গন্তব্যে না গিয়ে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
শনিরআখড়া থেকে হেঁটে কারওয়ান বাজারের পথে থাকা জাকের হোসেন বলেন, “আমি হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত। সড়কের পাশে জামায়াত নেতাকর্মীরা বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ কেউ খাবার খাচ্ছেন, আবার হাঁটা শুরু করছেন। যানবাহনের কোনো ব্যবস্থা নেই।”
আজ সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু হয় জামায়াতে ইসলামীর মহাসমাবেশের প্রথম পর্ব। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সাইফুল্লাহ মনসুর। দুপুর ২টায় শুরু হবে সমাবেশের মূল পর্ব, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন দলটির নেতাকর্মীরা, যা আজ সকাল থেকে পরিণত হয় জনস্রোতে। মিছিল, স্লোগান ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মাঠের দিকে অগ্রসর হন নেতাকর্মীরা।
সব মিলিয়ে রাজধানীর আজকের চিত্র ছিল জনস্রোত, স্লোগান, দীর্ঘ হাঁটা ও ভয়াবহ যানজটের এক অনন্য সংমিশ্রণ।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন