সকাল ও সন্ধ্যার সময় আল্লাহর স্মরণে কোন কোন জিকির ও দোয়া পড়লে পাওয়া যায় বিশেষ সওয়াব ও ফজিলত? রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে শিখিয়েছেন এমন আটটি গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও দোয়া, যেগুলো নিয়মিত আমল করলে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পাশাপাশি তাঁর কাছে ক্ষমা, রহমত ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা যায়। একজন মুমিনের জীবনে সকাল ও সন্ধ্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। ফজরের নামাজের পর সকাল এবং মাগরিবের নামাজের পর সন্ধ্যায় আল্লাহর জিকির ও দোয়া পাঠ করা সুন্নত আমলের অন্তর্ভুক্ত। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন আটটি গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও দোয়া।
প্রথমটি হলো সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার। এটি ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়াগুলোর একটি।
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্তা রব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি ওয়া আনা আব্দুকা, ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিজাম্বি, ফাগফিরলি, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি আপনার বান্দা। আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং নিজের গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন।
সহিহ বুখারির ৬৩০৬ নম্বর হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে এ দোয়া পাঠ করবে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যাবে, অথবা সন্ধ্যায় পাঠ করে সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
দ্বিতীয়টি হলো সব ধরনের অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া।
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামাই ওয়া হুয়াসসামিউল আলিম।
অর্থ: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পাঠ করার কথা হাদিসে এসেছে। আল্লাহর ইচ্ছায় এটি বিপদ ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার মাধ্যম। সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫০৭২।
তৃতীয়টি হলো ছোট অথচ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি তাসবিহ।
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র এবং সব প্রশংসা তাঁরই।
সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০ বার এই তাসবিহ পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন এই আমলের সমপর্যায়ের উত্তম আমল নিয়ে অন্য কেউ উপস্থিত হতে পারবে না।
চতুর্থটি হলো আয়াতুল কুরসি পাঠ। প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না।
পঞ্চমটি হলো আল্লাহ, ইসলাম ও রাসুলের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশের দোয়া।
উচ্চারণ: রাদিতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়াবিল ইসলামি দিনান, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।
অর্থ: আমি আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে জীবনবিধান এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।
সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পাঠের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সূত্র: জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৩৮৯।
ষষ্ঠটি হলো জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির দোয়া।
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
ফজরের ও মাগরিবের নামাজের পর কারও সঙ্গে কথা বলার আগে সাতবার এই দোয়া পাঠের কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫০৭৯।
সপ্তম আমল হলো সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ। সকাল ও সন্ধ্যায় প্রতিটি সুরা তিনবার করে পাঠ করা সুন্নত আমল। হাদিসে এসেছে, এই তিনটি সুরা পাঠ করলে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার জন্য তা যথেষ্ট হবে। সূত্র: জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৫৭৫।
অষ্টম আমল হলো সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ। বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, মাগরিবের পর নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এ আমলের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সকাল ও সন্ধ্যার এসব জিকির ও দোয়া শুধু মুখে পাঠ করার বিষয় নয়, বরং এগুলোর অর্থ উপলব্ধি করে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরতা আরও দৃঢ় করারও মাধ্যম। তাই ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন কিছুটা সময় আল্লাহর স্মরণে ব্যয় করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিয়মিত মাসনুন জিকির ও দোয়া পাঠ করার এবং এসব আমলের বরকত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন