বন্ধুর সঙ্গে শেষবার বের হওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির জীবনে? তাঁর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে এবার মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে গ্রেপ্তার হওয়া বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও তরুণী নিশাত তাসনিম দিশাকে। চার দিনের রিমান্ডে থাকা এই দুজনের বক্তব্যের মধ্যে কোনো অসংগতি আছে কি না, তা যাচাই করছে নৌপুলিশ।
নৌপুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য বের করতে দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনার আগে ও পরে তাঁদের গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বন্ধু দীপের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বের হন তাহসিফ। পরে তাঁরা উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের একটি বারে যান। সেখানে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন নিশাত তাসনিম দিশা। বারে অবস্থানকালে তাহসিফের সঙ্গে দিশার কিছুটা মনোমালিন্য হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর বার থেকে বেরিয়ে তাহসিফ নিজেই মোটরসাইকেলে দিশাকে তাঁর বাসার সামনে পৌঁছে দেন।
তবে ঘটনার রাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দীপের দেওয়া বক্তব্য এখন তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, সেখানে পুলিশের পোশাক পরা দুজন সদস্যকে দেখে তাঁরা ভয় পেয়ে দুই দিকে দৌড়ে যান। তিনি তুরাগ নদের তীরে একটি পিলারের কাছে লুকিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চলে যেতে বলেন। এরপর তাহসিফের সঙ্গে আর দেখা হয়নি বলে দাবি করেছেন দীপ।
কিন্তু তদন্তে পাওয়া সময়ের হিসাব নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তাঁর মায়ের মুঠোফোনে শেষ ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি রওনা হয়েছেন। এর মাত্র চার মিনিট পর, রাত ১টা ৩৯ মিনিটে দীপ মোহাম্মদপুরের ভাড়া বাসার দারোয়ানকে ফোন করে জানান, তাঁর ফিরতে দেরি হবে। পরে রাত আড়াইটার দিকে তিনি একাই বাসায় ফেরেন। এদিকে ঘটনার সময় মাজার বস্তি এলাকায় আট সদস্যের একটি পুলিশ টহল দল দায়িত্ব পালন করছিল। তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে ওই টহল দলের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানতে পুলিশ সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে নৌপুলিশ। পাশাপাশি স্থানীয়দের দেওয়া ভিডিও এবং বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর ১৪ নম্বর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দিশাকেও। আদালত তাঁরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে আসলে কী ঘটেছিল, বন্ধু ও তরুণীর বক্তব্যের মধ্যে কী অসংগতি রয়েছে এবং ওই রাতের ঘটনাপ্রবাহে আর কারও ভূমিকা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নৌপুলিশ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন