মাসে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন এবার ছড়িয়ে পড়েছে নতুন নতুন শিল্পাঞ্চলে। রাজধানীর মিরপুর থেকে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া হয়ে নারায়ণগঞ্জ—বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও পুলিশের গাড়িতে আগুন, কোথাও মহাসড়ক অবরোধ, আবার কোথাও বন্ধ হয়ে গেছে শত শত পোশাক কারখানা। সব মিলিয়ে শ্রমিক অসন্তোষে বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প।
সোমবারও আন্দোলনে উত্তপ্ত ছিল দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলো। নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তারা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। আন্দোলন চলাকালে পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর এবং একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে।
সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের এক সহকারী পুলিশ সুপারসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় পাঁচটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনের পেছনে নাশকতার উসকানি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এই আন্দোলনে কিছু শিল্পমালিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির ইন্ধন থাকার অভিযোগ তুলেছেন।
এদিকে, শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে কারখানার উৎপাদনে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানী অঞ্চলে মোট ৬৭০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি শ্রমিক। একদিকে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি, অন্যদিকে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও কারখানা বন্ধ—এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবি পূরণ এবং শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন