সৌদি আরবের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে পাকিস্তানের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে—এমনই কঠোর বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ। সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে নিজেদের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখছে পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতেই এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি।
ইসলামাবাদের জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের পর আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষা করা পাকিস্তানের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার ঘটনায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। এই ঘটনার পরই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর অবস্থানের কথা সামনে এলো।
মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ বলেন, পবিত্র দুই মসজিদ এবং পবিত্র হিজাজ অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো প্রচেষ্টা মুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাঁর মতে, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ধর্মপ্রাণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো অত্যন্ত মর্মান্তিক। কারণ, তাঁরা সেখানে যান ধর্মীয় ইবাদত পালন করতে, কারও সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে নয়।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। পাশাপাশি গত আগস্টে তুরস্ককে সঙ্গে নিয়ে তিন দেশের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মিত্র দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর আক্রমণ হলে সেটিকে সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও সংসদ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের মহাসচিব মাওলানা আবদুল গফুর হায়দারী, পাক-সৌদি সংহতি পরিষদের পৃষ্ঠপোষক সিনেটর ড. হাফিজ আবদুল করিম এবং জমিয়তে উলামায়ে পাকিস্তানের প্রধান শাহ ওয়াইস নূরানী ছিলেন।
তাঁরা যৌথভাবে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তার ওপর হামলার নিন্দা জানান। সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই বক্তব্য দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও পারস্পরিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
সূত্র: আরব নিউজ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন