ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন স্কেলের বেতন পেতে বিলম্বের আশঙ্কা শাহজালালে আচারের বয়ামে মিললো হীরা, সোনা, প্লাটিনাম ও রুবি আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী আখ্যা কঙ্গনার, দেখছেন অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বিটিআরসি কর্মকর্তার জবানবন্দিতে ইন্টারনেট বন্ধের নেপথ্য কাহিনী নাটোর স্টেশনে চুরি হওয়া সেই জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ উদ্ধার দিল্লিতে বসে আওয়ামী লীগ, দেশে থেকে জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও নিয়ে সতর্ক করলেন শায়খ সুদাইস ইউরোপের স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় ঐক্য রেখে দল শক্তিশালী করুন, বিতর্কে জড়াবেন না ইতিহাসের পাতায় ফ্লিকের বার্সা

যুবরাজের একের পর এক ভুলে নতুন করে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়াল সৌদি আরব

ইয়েমেন থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আবারও বড় নিরাপত্তা সংকটে সৌদি আরব! যে দেশকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পর্যটন
  • আপলোড সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৩ সময়
  • আপডেট সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৩ সময়
যুবরাজের একের পর এক ভুলে নতুন করে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়াল সৌদি আরব

ইয়েমেন থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আবারও বড় নিরাপত্তা সংকটে সৌদি আরব! যে দেশকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পর্যটন ও বিশ্বমানের ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সেই দেশকেই এখন সামলাতে হচ্ছে নতুন যুদ্ধের চাপ। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দীর্ঘদিনের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দূরত্ব, হুতিদের মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত অবস্থানের মধ্যে সৌদি আরব কি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে?


প্রায় ১১ বছর ধরে ইয়েমেনের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে সৌদি আরব। কখনো সামরিক অভিযান, কখনো কূটনৈতিক আলোচনা—দুই পথেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। একপর্যায়ে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগও নেয় রিয়াদ। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পর সৌদি আরবের লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় মনোযোগ দেওয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা সেই হিসাব নতুন করে জটিল করে তুলেছে।


হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, তেল অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব পড়ছে দেশটির বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা, তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক আয়োজনেও। একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট স্থগিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সম্মেলন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সংকটের পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ। এর মধ্যে অন্যতম সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন। ইয়েমেনে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ বাড়ে। গত বছরের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠানো সামরিক যানবহরে সৌদি বিমান হামলার পর দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে ফাটল আরও স্পষ্ট হয়। পরে আমিরাতের সেনারা ইয়েমেন থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে সেখানে সৌদি আরবের সমর্থিত বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়।


বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, আমিরাতের সেনারা সরে যাওয়ার পর তৈরি হওয়া সামরিক শূন্যতা সৌদি আরব পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। আগে আমিরাতের নেতৃত্বে কাজ করা বহু যোদ্ধার সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন কমান্ড কাঠামোর সমন্বয়ও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোকে একক নেতৃত্বের অধীনে আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।


এর মধ্যেই বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান অবরোধ উপেক্ষা করে ইরান একটি বাণিজ্যিক বিমান পাঠানোর পর সানা বিমানবন্দরে হামলা চালায় সৌদি বাহিনী। এর জবাবে হুতিরা যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং সৌদি জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দেয়। পরবর্তী সময়ে তেল অবকাঠামোয় হামলার কারণে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরির আশঙ্কাও দেখা দেয়।


আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তাদের হাতে এমন অস্ত্র রয়েছে, যা সৌদি আরবের দূরবর্তী শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও আঘাত হানতে পারে। অন্যদিকে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং কিছু এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা তাদের মনোবলে প্রভাব ফেলেছে।


সৌদি আরবের আরেকটি বড় উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন সহায়তা চেয়ে রিয়াদ প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।


এদিকে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করতে সৌদি আরব অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। মিসরের সঙ্গে বৈঠক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।


বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা হলো, শুধু সামরিক অভিযান চালিয়ে ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। হুতিবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ দূর করা, সামরিক নেতৃত্বের সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা জরুরি। পুনর্দখল করা এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক সাফল্যও দীর্ঘমেয়াদে কাজে নাও আসতে পারে।


সব মিলিয়ে, ইয়েমেনের সংঘাত এখন শুধু সৌদি আরব ও হুতিদের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির স্বার্থ। কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে না এলে সৌদি আরবকে দীর্ঘদিন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকতে হতে পারে। আর সেই অনিশ্চয়তা কাটানোর চাবিকাঠি হয়ে উঠছে মিত্রদের সমন্বয়, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং ইয়েমেনে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার