রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা! মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফার এই আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন এক পাকিস্তানি নাগরিক, আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়—সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী। তাহলে কি এবার সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে?
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার, ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। হামলার পর বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক। আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন। এর মাত্র এক দিন আগে একই বিমানবন্দরে আরেকটি ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সপ্তাহের শুরু থেকেই সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটছে।
হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং চালকবিহীন আকাশযান ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদের পাশাপাশি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত দাম্মাম বিমানবন্দর এবং বিভিন্ন তেল শোধনাগারেও আক্রমণ চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
শুধু হামলার দাবি জানিয়েই থেমে থাকেনি হুথিরা। সৌদি আরবের ভেতরে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। গোষ্ঠীটির দাবি, পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলো তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপ এবং সানার বিমানবন্দরে চালানো বিমান হামলার জবাব দিতেই এসব আক্রমণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হুথিরা। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানবন্দরের চার নম্বর যাত্রী টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালাবে কি না, সে বিষয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এ কথা জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, রিয়াদ বিমানবন্দরে পরপর হামলা এবং সৌদি আরবের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কী পদক্ষেপ নেয়, আর সৌদি আরবের পাল্টা প্রতিক্রিয়া কী হয়—এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন