ভারতে বিক্ষোভ শুরুর আগেই তরুণদের গ্রেপ্তার, ইন্টারনেট বন্ধ এবং গণপরিবহন স্থগিতের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এবার এই ঘটনায় সরব হয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আটক তরুণ বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষায় ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু কী ঘটছে ভারতের এই আন্দোলনকে ঘিরে, আর কেনই বা বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ডাক দিলেন বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক নেতা?
শনিবার, ১০ অক্টোবর নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। ভারতে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান তিনি। তাঁর পোস্টে ধ্রুব রাঠী এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ তরুণ বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই তরুণদের গ্রেপ্তার করে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও প্রতিবাদ করার অধিকার তরুণদের মৌলিক অধিকার। এই অধিকারকে সম্মান জানানো উচিত ভারত সরকারের। ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিক্ষোভ বাধাগ্রস্ত করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে শত শত ট্রেনের সময়সূচি বাতিল, বাস চলাচল স্থগিত, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং বিক্ষোভের এলাকাগুলো ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
আসিফ মাহমুদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে। তবে এসব পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি। এনসিপির মুখপাত্র ভারত সরকারের প্রতি আটক সব বিক্ষোভকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তরুণদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে আসিফ মাহমুদ বিশ্বের তরুণদের প্রতি সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা সরকারি দমন-পীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ভারতের চলমান আন্দোলন ঘিরে আটক তরুণদের মুক্তি এবং প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে আন্দোলনের পরিস্থিতি, গ্রেপ্তারের কারণ এবং বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন