ঢাকা | |

গ্যাস-সংকট কাটিয়ে প্রায় ৮ মাস পর যমুনা সার কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু

প্রায় আট মাস ধরে বন্ধ ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানা। গ্যাসের সংকট, বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি আর কম
  • আপলোড সময় : ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৭ সময়
  • আপডেট সময় : ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৭ সময়
গ্যাস-সংকট কাটিয়ে প্রায় ৮ মাস পর যমুনা সার কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু

প্রায় আট মাস ধরে বন্ধ ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানা। গ্যাসের সংকট, বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি আর কম গ্যাসের চাপ—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিল উৎপাদন। কিন্তু হঠাৎ করেই গভীর রাতে বদলে গেল পরিস্থিতি। প্রায় আট মাস পর আবার চালু হলো জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা। আর এই কারখানা পুরোদমে চালু হওয়ায় দেশের কৃষি ও সার সরবরাহে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে যমুনা সার কারখানায় আবার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানাটির মহাব্যবস্থাপক অপারেশন মো. ফজলুল হক।


কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস-সংকটের কারণে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। তবে এই বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও গ্যাসের সংকটে বারবার ব্যাহত হয়েছে কারখানাটির উৎপাদন। ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি গ্যাস-সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে প্রয়োজনীয় ত্রুটি মেরামত করে আবার উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে দেখা দেয় যান্ত্রিক ত্রুটি। ফলে আবারও বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন।


মেরামতের পর ৯ মার্চ সকালে উৎপাদন শুরু হলেও তখনও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় গ্যাসের চাপ। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদন আবার বন্ধ রাখতে হয়। অর্থাৎ গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় বারবার থমকে গেছে সার উৎপাদন। এবার অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আর গ্যাসের চাপ আরও বাড়ানো গেলে দৈনিক উৎপাদন ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।


তবে যমুনা সার কারখানার পূর্ণ উৎপাদনক্ষমতা আরও বেশি। ১৯৯১ সালে উৎপাদন শুরুর পর থেকে কারখানাটির দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে উৎপাদন শুরু হলেও গ্যাসের চাপ পর্যাপ্ত না হলে কারখানাটি এখনই তার সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারবে না। সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দিতে অবস্থিত এই কারখানাটি দেশের বৃহত্তম দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এখান থেকে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ মোট ১৯ জেলায় সার সরবরাহ করা হয়।


ফলে দীর্ঘ সময় পর যমুনা সার কারখানা আবার উৎপাদনে ফেরায় শুধু জামালপুর নয়, দেশের বিস্তৃত কৃষি অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কৃষকদের প্রয়োজনের সময়ে ইউরিয়া সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কারখানাটির নিয়মিত উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এবার কি আর গ্যাস-সংকট বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন আবার থেমে যাবে, নাকি নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকবে যমুনা সার কারখানা? কারণ উৎপাদন শুরু হওয়াটা স্বস্তির খবর হলেও, কারখানাটিকে তার পূর্ণ সক্ষমতায় দীর্ঘ সময় সচল রাখতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকছে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
তিন ট্রাকভর্তি ৪ লাখ পাঠ্যবই জব্দ নিয়ে তুলকালাম!

তিন ট্রাকভর্তি ৪ লাখ পাঠ্যবই জব্দ নিয়ে তুলকালাম!