ব্রাজিলের রাজনীতিতে আবারও মুখোমুখি বাম ও ডানপন্থী শিবির। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষে বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলেছেন ডানপন্থী তরুণ সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। ভোটের মাঠে দুই শিবিরের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এখন সবার নজর দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিকে।
রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে ব্রাজিলের প্রায় ১৬ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি আইনপ্রণেতা, গভর্নর ও সিনেটর নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন দেশটির নাগরিকেরা। ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থার কারণে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি না পেলে সরাসরি জয় নিশ্চিত হবে না। সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীকে নিয়ে হবে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন।
সেই নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২৫ অক্টোবর লুলা দা সিলভা ও ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে চূড়ান্ত লড়াই হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বেশিরভাগ জনমত জরিপে লুলা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। তবে তার সঙ্গে ফ্লাভিও বলসোনারোর ব্যবধান ছিল খুবই কম। এমনকি দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য ভোটের হিসাবেও দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান আরও সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে। ফলে এই নির্বাচন শুধু দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং ব্রাজিলের বাম ও ডানপন্থী রাজনীতির পুরোনো দ্বন্দ্বেরও নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বামপন্থী সমর্থন নিয়ে লড়ছেন লুলা। অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ডানপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। প্রথম দফার ফলাফল যেদিকেই যাক না কেন, আগামী ২৫ অক্টোবরের রান-অফ নির্বাচনে জয় পেতে দুই পক্ষকেই জোরালো প্রচারণায় নামতে হবে।
এখন ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে মূল প্রশ্ন একটাই—আরেক মেয়াদে কি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন লুলা, নাকি বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সামনে রেখে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন ফ্লাভিও বলসোনারো? প্রথম দফার ভোট শেষে সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে এখন অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত নির্বাচনের জন্য।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন