দুবাই থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে উড্ডয়ন করা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ঘটেছে গুরুতর ঘটনা। আকাশে থাকা অবস্থায় এক পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন তারই সহ–পাইলট। এরপর বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তায় হামলাকারী পাইলটকে কাবু করা হয়। পরে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বিবৃতিতে ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, হামলাকারী পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, জর্ডানের আকাশসীমায় থাকার সময় বিমানের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে সহ–পাইলট বিমানের ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সময় বিমানে থাকা এক ইসরায়েলি যাত্রী একজন ক্রু সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ককপিটে প্রবেশ করেন। তারা দুজন মিলে ছুরিকাঘাতকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই পাইলট বিমানের বিভিন্ন ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করছিলেন। পরে বিমানের আরও কয়েকজন ক্রু ককপিটে প্রবেশ করেন। তাদের সহযোগিতায় বিমানটির নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নেওয়া সম্ভব হয়। এরপর যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, বিমানের ওই পাইলটের কর্মকাণ্ড থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি যাত্রীসহ বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এই উদ্দেশ্য ও ঘটনার বিস্তারিত কারণ এখনো তদন্তাধীন। বিমানে থাকা প্রায় সব যাত্রীই ইসরায়েলি নাগরিক ছিলেন বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ঘটনার পর সাধারণ যাত্রী ও ফ্লাইট ক্রুদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন