একসময় বলা হয়েছিল, এই রেকর্ড মেসির পক্ষে ভাঙা সম্ভব নয়। অথচ সময়ের সঙ্গে সেই ভবিষ্যদ্বাণীকেই ভুল প্রমাণ করে ইতিহাসের একেবারে শীর্ষে উঠে আসার পথে লিওনেল মেসি। বয়স বাড়ার সঙ্গে যেখানে অনেক ফুটবলারের পারফরম্যান্সে ভাটা পড়ে, সেখানে ফ্রি-কিকের ক্ষেত্রে যেন উল্টো গল্প লিখেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। প্রায় দুই দশক ধরে ফুটবল বিশ্বে মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তুলনা চলে আসছে। গোল, অ্যাসিস্ট, শিরোপা কিংবা ব্যক্তিগত রেকর্ড—প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাদের পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার সেই আলোচনায় আবারও সামনে এসেছে ফ্রি-কিক গোলের হিসাব।
২০১৭ সালে ইয়াহু স্পোর্টসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রোনালদোর একটি রেকর্ড মেসির পক্ষে ভাঙা প্রায় অসম্ভব। তখন রোনালদোর ফ্রি-কিক গোল ছিল ৫৩টি, আর মেসির ছিল মাত্র ৩৪টি। অর্থাৎ দুজনের মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ২০ গোলের। সেই সময় মেসির পক্ষে এই ব্যবধান পেরিয়ে যাওয়া কঠিনই মনে হয়েছিল। কিন্তু এরপর বদলে যায় গল্প।
ত্রিশের কোঠা পার করার পর ফ্রি-কিকে নিজের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনেন মেসি। শক্তির চেয়ে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, বলের গতি এবং শটের বাঁককে কাজে লাগিয়ে একের পর এক অসাধারণ গোল করতে থাকেন তিনি। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেসির ফ্রি-কিক গোলের সংখ্যা ৭৬টি। অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফ্রি-কিক গোল ৬৩টি। অর্থাৎ একসময় রোনালদোর চেয়ে প্রায় ২০ গোল পিছিয়ে থাকা মেসি এখন তাকে ছাড়িয়ে গেছেন ১৩ গোলের ব্যবধানে।
আর চলতি ২০২৬ সালেই মেসির পারফরম্যান্স আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত তিনি একাই সাতটি ফ্রি-কিক গোল করেছেন। এই অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ ফ্রি-কিক গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এই রেকর্ডযাত্রায় মেসি পেছনে ফেলেছেন ব্রাজিলের একাধিক বিখ্যাত ফ্রি-কিক বিশেষজ্ঞকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জুনিও পেরনামবুকানো, রবার্তো দিনামিতে এবং জার। প্রত্যেকেই নিজেদের সময়ে ফ্রি-কিকের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন।
তবে এখন মেসির সামনে রয়েছেন আর মাত্র একজন। ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক ফ্রি-কিক গোলের রেকর্ডটি এখনো ব্রাজিলের মার্সেলিনহো কারিওকার দখলে। নব্বইয়ের দশক এবং দুই হাজারের শুরুর সময়ের অন্যতম পরিচিত এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের নাম দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রি-কিকের রেকর্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ফলে মেসির সামনে এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একটি মাইলফলক। ৭৬টি ফ্রি-কিক গোল নিয়ে তিনি যখন দ্বিতীয় অবস্থানে, তখন শীর্ষে থাকা মার্সেলিনহো কারিওকার রেকর্ড ছুঁতে এবং ছাড়িয়ে যেতে প্রয়োজন আর কয়েকটি গোল।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ২০১৭ সালে যে রেকর্ডকে মেসির জন্য প্রায় অসম্ভব মনে করা হয়েছিল, কয়েক বছর পর সেই রেকর্ডের একেবারে দরজায় এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। মেসির ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি প্রশ্ন—ফ্রি-কিকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটিও কি নিজের করে নিতে পারবেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা? সময়ই দেবে সেই প্রশ্নের উত্তর। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—ফ্রি-কিকের ক্ষেত্রে মেসির এই দীর্ঘ প্রত্যাবর্তন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রেকর্ডযাত্রা হয়ে থাকবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন